kalerkantho


প্রদর্শনী

ওসমানি আমলের হাতে লেখা কোরআন শরিফ

নওশাদ জামিল   

১৯ মে, ২০১৭ ০০:০০



ওসমানি আমলের হাতে লেখা কোরআন শরিফ

ওসমানি আমলের হাতে লেখা কোরআন শরিফ জাতীয় জাদুঘরে হস্তান্তর করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

জাতীয় জাদুঘরে শুরু হয়েছে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত ওসমান (রা.)-এর সময়ের হাতে লেখা একটি দুর্লভ কোরআন শরিফের প্রদর্শনী। বিশ্বে এ ধরনের কোরআনের পাঁচটি কপি রয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি জাতীয় জাদুঘরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, পাকিস্তান আমলে তৎকালীন রাশিয়ার তাসখন্দ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এই কোরআন শরিফ। দীর্ঘদিন সেটি ছিল ইসলামিক ফাউন্ডেশনে। কোরআনটির দৈর্ঘ্য ১০ ইঞ্চি, প্রস্থ ১ ফুট, উচ্চতা ৩ ইঞ্চি। ওজন সাড়ে ৭ কেজি। পৃষ্ঠাসংখ্যা ৩৭২।

গতকাল বিকেলে জাতীয় জাদুঘরে ঢুকতেই দেখা যায় লবিতে কাচের মধ্যে রাখা কোরআনটি। বিভিন্ন বয়সের মানুষ আগ্রহ নিয়ে দেখছে সেটি। আয়োজকরা জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরের দিন পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দর্শনার্থীদের জন্য এই কোরআন শরিফের বিশেষ প্রদর্শনী শুরু হয়। তার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি গ্রহণ করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

গতকাল কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালা ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি শিল্পী হাশেম খান। অনুষ্ঠানে নেপাল থেকে আগত আইকমের (দি ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব মিউজিয়ামস) সভাপতি অধ্যাপক প্রেম সিং বাসাত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘জাদুঘর আন্তর্জাতিক সম্পদ। এটি ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে ধারণ করে। বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি অনেক সমৃদ্ধ। এ দেশের জাদুঘরসমূহ তা ধারণ ও লালন করে চলছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘নেপালের জনগণ সংস্কৃতিমনা। আমাদের জাদুঘরও বেশ সমৃদ্ধ। কিন্তু আমরা অনেক প্রতিকূলতা মোকাবেলা করেছি বিভিন্ন সময়ে। ২০১৫ সালে নেপালে বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানে। অনেক কিছু তছনছ হয়ে যায়। সব কিছু ছাপিয়ে আমরা জাদুঘর ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে গড়ে তুলেছি। কারণ এটি একটি দেশের প্রাণ। ’

অনুষ্ঠানে জাতীয় জাদুঘরের উন্নয়ন ও বিকাশে বিশেষ অবদান রাখার জন্য জাদুঘরের সাবেক মহাপরিচালক ড. এনামুল হককে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। এ ছাড়া সম্মাননা জানানো হয় জাদুঘরের নিদর্শন সংগ্রহে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ওলী মিয়াকে। তিনি প্রায় ১০ হাজার নিদর্শন সংগ্রহে প্রত্যক্ষ অবদান রেখেছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘জাদুঘর শুধু কিছু ঐতিহাসিক জড় বস্তুর সমাহার নয়, এটি জীবন্ত ইতিহাসের আকর। জাদুঘর অতীত ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে ধারণ করে এবং বর্তমানের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করে। ’ তিনি বলেন, ‘সময়ের বিবেচনায় আমরা জাদুঘর সম্প্রসারণের নানা উদ্যোগ নিয়েছি। সম্প্রতি এটিকে ভার্চুয়াল জাদুঘরে পরিণত করা হয়েছে। ফলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে এখানকার বিভিন্ন নিদর্শন দেখা যাচ্ছে। ’

এ বছর আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, ‘মিউজিয়ামস অ্যান্ড কনটেস্টেড হিস্টোরিজ : সেয়িং দি আনস্পিকেবল ইন মিউজিয়ামস’। এ উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘর সপ্তাহব্যাপী সেমিনার, বিশেষ প্রদর্শনী, ওয়ার্কশপ, নিদর্শন গ্রহণ, সংগীতসন্ধ্যা, কবিতা আবৃত্তি, স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করেছে।

গতকাল বিকেলে জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান। ‘জাদুঘর হতে পারে বিতর্কিত ইতিহাসের অভয়ারণ্য’ শীর্ষক এ সভায় অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন আফসান চৌধুরী, সলিমুল্লাহ খান, নাইমুল ইসলাম খান প্রমুখ। সন্ধ্যায় হয় শিল্পী সফি বাউলের একক সংগীত পরিবেশনা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট কবি নির্মলেন্দু গুণ।

সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় দিন আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় আছে আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন স্মারক বক্তৃতা এবং সন্ধ্যায় শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার একক সংগীতানুষ্ঠান।


মন্তব্য