kalerkantho


পবিত্র দুই মসজিদ হুমকিতে পড়লেই শুধু সেনা সহায়তা

প্রধানমন্ত্রীর সৌদি সফরের আগে স্পষ্ট করল ঢাকা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৯ মে, ২০১৭ ০০:০০



পবিত্র দুই মসজিদ হুমকিতে পড়লেই শুধু সেনা সহায়তা

ফাইল ছবি

সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে সেনা না পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশের আগের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পবিত্র মক্কা ও মদিনার দুই মসজিদ হুমকিতে পড়লে এবং ওই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব সহযোগিতা চাইলেই কেবল বাংলাদেশ সেখানে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত থাকবে। আগামীকাল শনিবার থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চার দিনের সৌদি আরব সফরের প্রাক্কালে গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বাংলাদেশের এ অবস্থান স্পষ্ট করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ আলী বলেন, ‘আমরা আগের অবস্থানেই আছি। তবে মুসলমান দেশ হিসেবে দুই পবিত্র মসজিদের ব্যাপারে যে ভক্তি ও ভালোবাসা আছে, যদি মক্কা ও মদিনার মসজিদ হুমকিতে পড়ে এবং সৌদি আরব আমাদের সহযোগিতা চায়, তাহলে অবশ্যই সৈন্য পাঠাব। যদি এ রকম কিছু হয়, তবে সামরিক সাহায্য দিতে প্রস্তুত থাকব। ’

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়ে বাংলাদেশ নিজেকে সৌদি-ইরান বিবাদের মধ্যে জড়াচ্ছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, এমন আশঙ্কা একেবারেই ভিত্তিহীন। সন্ত্রাসবাদের মতো বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবেলা করাই সৌদির সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি কেন্দ্রের নামকরণ করা হয়েছে ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর কমবেটিং এক্সট্রিমিস্ট থট’। বাংলাদেশ মনে করে, চলমান হানাহানির অবসান হওয়া উচিত। প্রতিটি দেশ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের জনগণের জীবন যাপন ও বিকাশে কাজ করবে। সৌদি নেতৃত্বাধীন উদ্যোগকে এখনই জোট বলা ঠিক হবে না। এটি ক্রমবিকাশমান। এ বিষয়ে এখনো লিখিত কিছু হয়নি।

উল্লেখ্য, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সউদের আমন্ত্রণে আরব-ইসলামিক-আমেরিকান শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যাচ্ছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, আরব বিশ্ব ও অন্যান্য মুসলিম দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা সম্মেলনে যোগ দেবেন। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় নতুন অংশীদারি প্রতিষ্ঠা, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের মূল্যবোধের প্রসার এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী এ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্র জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থান এবং সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের সামগ্রিক সাফল্য তুলে ধরবেন। পাশাপাশি তিনি এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যৌথভাবে করণীয় বিভিন্ন প্রস্তাবও দিতে পারেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্মেলনের ফাঁকে অন্যান্য রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর আলাদা বৈঠক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাদা কোনো বৈঠক হবে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেখা যাক’।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্মেলন শেষে প্রধানমন্ত্রী আগামী সোমবার পবিত্র মদিনায় রওজা শরিফ জিয়ারত ও পবিত্র মক্কায় ওমরাহ পালন শেষে পরদিন মঙ্গলবার ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।


মন্তব্য