kalerkantho


উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বদলে যাচ্ছে চারঘাট পৌরসভা

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১৯ মে, ২০১৭ ০০:০০



উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বদলে যাচ্ছে চারঘাট পৌরসভা

সরু রাস্তা, যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার অভাব, যথাযথ পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে না ওঠা এবং বিনোদনকেন্দ্র ও উন্নত বাজারব্যবস্থা ছাড়াই চলছিল চারঘাট পৌরবাসীর নাগরিক জীবন। উপজেলা সদর থেকে চারঘাট পৌরসভায় উন্নীত হওয়ার ১৯ বছর পরও গ্রামীণ জীবন থেকে নাগরিক জীবনের পার্থক্য দেখা যায় খুব কম। কিন্তু সেই চিত্র বদলে যেতে শুরু করেছে। এই বদলে যাওয়ার মূলে রয়েছে গত চার বছরে ১৫২ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ।

এ সবই সম্ভব হচ্ছে ২০১৩ সালে শুরু হওয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায়। প্রকল্পটি হচ্ছে ‘তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ (সেক্টর) প্রকল্প’। সরকারের পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ওপেক ফান্ড (অফিড) এতে অর্থায়ন করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় চারঘাটসহ ৩১টি পৌরসভায় উন্নয়নকাজ হয়। এর মধ্যে ১৫২ কোটি ৪৫ লাখ টাকার উন্নয়নকাজ হচ্ছে চারঘাট পৌরসভায়। এর অধীনে চারঘাট পৌরসভায় ২০ কিলোমিটারের বেশি রাস্তা নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ, ১০ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, ২০ কিলোমিটারের বেশি পানির পাইপ স্থাপন, সুপারমার্কেট ও কাঁচাবাজারের অবকাঠামোর উন্নয়নসহ বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সার্বিকভাবে এই প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুত্ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্যব্যবস্থার উন্নয়ন, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিনোদনব্যবস্থার উন্নয়ন, সুপারমার্কেট নির্মাণ, বড়াল পাড়ে আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করে উত্তর দিকে চারঘাট বাজারের জায়গা বর্ধিতকরণ, বস্তির সার্বিক উন্নয়ন, অডিটরিয়াম নির্মাণ, কবরস্থান ও শ্মশানঘাটের উন্নয়ন, প্রবীণ হিতৈষী কেন্দ্র নির্মাণ। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষে এখন দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে।

চারঘাট পৌরসভা সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে মোট ১১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। ওই বছর থেকে প্রথম পর্যায়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ, সাড়ে চার কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ এবং দেড় কিলোমিটারের বেশি ফুটপাত নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় বিগত অর্থবছরে দ্বিতীয় পর্যায়ে উন্নয়নকাজের বাস্তবায়ন চলছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৭ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও সোয়া পাঁচ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে ২০ কিলোমিটার পানির পাইপলাইন স্থাপন, একটি ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণ, পাঁচটি গভীর নলকূপ স্থাপন, দুটি সুপারমার্কেট নির্মাণ এবং পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এরই মধ্যে প্রায় দুই একর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলছ। এরই মধ্যে পৌর সদরের প্রধান রাস্তাগুলো প্রশস্ত করায় যানজটও কমে এসেছে। রাস্তার পাশে ড্রেন নির্মাণ করার ফলে দূর হয়েছে বর্ষা মৌসুমের জলাবদ্ধতা। আবার ফুটপাত নির্মাণের ফলে নগরবাসী স্বচ্ছন্দে হেঁটে চলাচল করতে পারছে পৌর সদরের ভেতরেই। এতে দুর্ঘটনার সংখ্যাও অনেকটা কমে এসেছে। শহরের বন্ধপ্রায় প্রধান দুটি ক্যানেলে পাকা আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করায় নিচু এলাকার পানি অনায়াসে নদীতে গিয়ে পড়ছে। এতে নিচু জমিগুলোর কৃষকরা এখন সারা বছর ফসল ফলাতেও পারছে।

চারঘাট পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, ১৯৯৮ সালে এ পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এর আগে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে পৌরবাসীর ভাগ্যেরও কোনো রদবদল হতে দেখা যায়নি এত দিন। কিন্তু গত চার বছরে বর্তমান সরকারের অধীনে অভূতপূর্ব উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

চারঘাট পৌরসভার উন্নয়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় সারদাহ এলাকার বাসিন্দা আলি আকবর বলেন, ‘প্রায় ১৯ বছর হলো এই পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এত দিন তেমন কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এখানে। ফলে অনেকটা অবহেলিতই ছিল এ পৌর এলাকাটি। পৌরসভার বাসিন্দা হয়েও এখানে তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছিলাম না আমরা। তবে গত কয়েক বছরে সেই অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখানে ব্যাপক উন্নয়নের ফলে আমাদের চলাফেরায় এসেছে গতি। ’

চারঘাটের পৌর মেয়র জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ (সেক্টর) প্রকল্প থেকে কমিপউটার সরবরাহসহ ডিজিটাল উপকরণ সরবরাহ করা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতাবৃদ্ধির প্রশিক্ষণ প্রদান করায় পৌরসভার যাবতীয় কার্যক্রমে এসেছে ডিজিটাল পদ্ধতি। পৌরসভার আয়-ব্যয়েও এসেছে স্বচ্ছতা। ই-জিপি পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে টেন্ডার প্রক্রিয়া। ফলে কর্মে গতিশীলতা ফিরে এসেছে, নাগরিকরা দ্রুত সেবা পাচ্ছে। এভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে চারঘাট পৌরসভা অংশীদার হতে পারায় আমি গর্বিত। ’

তিনি আরো বলেন, ‘এখনো যেসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চলছে সেগুলোরও বেশির ভাগ এই সরকারের আমলেই সম্পন্ন করা যাবে আশা করছি। আর এটি হলে চারঘাট একটি মডেল পৌরসভায় রূপান্তরিত হবে, যা বর্তমান সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২০২১ এর মূল ভাবনা ‘উন্নয়নের গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। ’ তবে চারঘাটের এ উন্নয়নের পেছনে স্থানীয় এমপি ও পররাষ্ট প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমেরও ভূমিকা থাকায় তাঁর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মেয়র।


মন্তব্য