kalerkantho


অ্যাওয়ার্ড

নেতৃত্বে সাফল্যের স্বীকৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



নেতৃত্বে সাফল্যের স্বীকৃতি

গতকাল পুলিশ স্টাফ কলেজের পিএসসি কনভেনশন হলে ‘বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড ২০১৭’ প্রদান করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘আমি যখন পুলিশে আসি তখন মেয়েরা আসতে চাইত না। এখন অনেক মেধাবী ও দক্ষ মেয়ে আছে পুলিশে।

তারা আমাদেরও ছাড়িয়ে যাবে। যেকোনো পুরস্কার ভালো কাজের স্বীকৃতি। নারী পুলিশের অ্যাওয়ার্ড সবার মানসিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছি। ’

রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজের পিএসসি কনভেনশন হলে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের পর কথাগুলো বলেন বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম নারী অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) ফাতেমা বেগম। তাঁর মতোই পেশাগত কাজে সাহসিকতা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি পেয়েছেন পুলিশের আরো ২০ জন নারী সদস্য। তাঁদের দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড ২০১৭’।

নারী পুলিশের পেশাগত দক্ষতা-বীরত্বের স্বীকৃতি প্রদানের এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত বছর। প্রথম বছরে ৩২ জন নারী পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা দেওয়া হয়। আর এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সাতটি ক্যাটাগরিতে ২১ জন নারী পুলিশ সদস্য ও দুটি সংগঠনকে পুরস্কৃত করা হলো।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ।

কৃতী নারী পুলিশ সদস্যদের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘নারী পুলিশের অবস্থান দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। তাঁরা  বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে উচ্চ পদে আসীন হচ্ছেন। নারী পুলিশের কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্ব অত্যন্ত উঁচু মানের। জনগণের জানমাল রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন কাজে নারী পুলিশ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। নারী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং উইমেন অ্যান্ড ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে কর্মরত নারীরাও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ’

গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নিশাথ রহমান মিথুন বলেন, ‘যখন পুলিশে এসেছিলাম তখন অনেক চিন্তা ছিল। তবে পরবর্তীতে সুন্দর একটি পরিবেশে কাজ করতে পেরেছি। নারী সদস্য হিসেবে পুলিশে কোনো ধরনের কাজেই পিছপা হইনি। আজকের এই অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তি ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিল। ’

ডিএমপির তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ট্রাফিক জোনের শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট পান্না আক্তার অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করে বলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশ থেকে আমি এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হয়েছি। এটা আমার জন্য খুবই গর্বের ও আনন্দের। পাঁচ বছর আগে নেত্রকোনা থেকে এসে যখন পুলিশে যোগ দিলাম তখন থেকেই এ পেশাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। এই পুরস্কার আমার সেই চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিল। ’

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘নারী কোনো ক্ষেত্রে এখন আর পিছিয়ে নেই। নারী জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার জেন্ডার বৈষম্য বিলোপ, সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ, নারী-শিশু পাচার রোধ, সাইবার ক্রাইম রোধসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে। সেই উন্নয়নধারার অংশীদার হিসেবে পুলিশের নারী সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। ’

প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে পুলিশের নারী সদস্যরা কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। পাশাপাশি তাঁরা নিপীড়িত ও নির্যাতিত নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছেন। ’

সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘পুলিশে নারী সদস্যদের অবস্থান অত্যন্ত সুসংহত। এখানে নারী সদস্যরা অত্যন্ত সম্মান নিয়ে কাজ করছেন। পুলিশে আরো নারী সদস্য বাড়ানোর কার্যক্রম চলছে। ’

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দিন দিন বাড়ছে নারী পুলিশের সংখ্যা। তাদের অনেকে এখন বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ ও শাখার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গত দুই বছরে পুলিশ সপ্তাহে প্যারেড পরিচালনা করেছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গাড়ি চালিয়েছেন এক নারী পুলিশ সদস্য। দেশের বাইরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়েও নারী পুলিশ সদস্যরা সুনাম কুড়িয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের নারী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের সভাপতি মিলি বিশ্বাস। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ফাতেমা বেগম বক্তব্য দেন। সব শেষে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ১৯৭৪ সালে ১৪ জন নারী পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে অ্যাডিশনাল আইজিপি থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার নারী এ বাহিনীতে কর্মরত।

গত বছরের মতো এবারও এন্টারপ্রেনার উইমেন অর্গানাইজেশন অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)। বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক পেয়েছে উইমেন অর্গানাইজেশন অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড। লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজি) ফাতেমা বেগম।

বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রেলওয়ে পুলিশের এসপি (প্রশাসন) মোছা. শেহেলা পারভীন, জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রওনক জাহান ও সিরাজগঞ্জের র‌্যাব ১২-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রীপা রানী দাস।

মেডেল অব কারেজ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) খিলগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) নাদিয়া জুঁই, র‌্যাব সদর দপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক শামীম আরা বেগম, ডিএমপির তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ট্রাফিক জোনের শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট পান্না আক্তার, বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখার কনস্টেবল অনিমা খাঁ ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কনস্টেবল মোছা. লতা পারভীন।

এক্সিলেন্স ইন সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোপনীয়) তাসমিয়াহ তাহলীল, পুলিশ স্টাফ কলেজ ঢাকার উপপরিচালক রওশন সাদিয়া আফরোজ, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) সিনিয়র সহকারী কমিশনার নিশাত রহমান মিথুন ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সহকারী পুলিশ সুপার শামসুর নাহার খানম।

কমিউনিটি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন উত্তরা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সহকারী পুলিশ সুপার তানজিনা আক্তার, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার উইমেনস সাপোর্ট সেন্টারের সহকারী পুলিশ সুপার সোনিয়া পারভীন, সিএমপি ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের এসআই ইয়াছমিন আরা বেগম এবং বরগুনার এসআই জান্নাতুল ফেরদৌস।

পিস কিপিং মিশন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি প্রশাসন) সুলতানা খানম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রেনিং অ্যান্ড স্পোর্টস) মাহফুজা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রবাসী সহায়তা সেল) আসমা বেগম রিটা এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এসআই মর্জিনা খাতুন।


মন্তব্য