kalerkantho


ক্লাবে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ডিবির এসিসহ ১১ পুলিশ সাময়িক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



ডিবির এসিসহ ১১ পুলিশ সাময়িক বরখাস্ত

রাজধানীর কাফরুলের একটি ক্লাবে গিয়ে ‘র‌্যাব’ পরিচয় দিয়ে মারধর করে মোবাইল ফোন ও টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর গোয়েন্দা পুলিশের একজন সহকারী কমিশনারসহ ১১ জনকে বুধবার রাতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার ও  গতকাল বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা কাফরুল এলাকায় গিয়ে কথা বলেন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, ডিবির টিমটি এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে অভিযান চালানোর কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের ক্লোজ করে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে রাখা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্ত করা হচ্ছে। এ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না। ’

ডিবির  ডিসি (পূর্ব) খন্দকার নুরুন্নবী কালের কণ্ঠকে জানান, ১১ জনকেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। কী অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে—প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি হাসপাতালে আছি। কাগজ না দেখে বলতে পারব না। ’

জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে ডিবি পূর্ব বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ১১ জন সদস্য রাজধানীর কাফরুলের ইব্রাহিমপুরে নিউ ওয়েভ ক্লাবে যান। তাঁরা গিয়ে নিজেদের র‌্যাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে ক্লাবে থাকা ব্যক্তিদের জুয়া খেলার অপরাধের কথা বলে মারধর করেন এবং তাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেন।   পরে তাঁরা চলে গেলে ক্লাবের সদস্যরা দ্রুত র‌্যাব-৪-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে। র‌্যাব-৪ থেকে জানানো হয়, সেখানে র‌্যাবের কেউ অভিযানে যায়নি। যে নাম বলেছে সে নামের কোনো মেজরও র‌্যাব-৪-এ নেই। একই সময় ভুক্তভোগীরা বিষয়টি জানায়  ক্যান্টনমেন্টেও। পরে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা দিয়ে ডিবির গাড়িটি যাওয়ার সময় মিলিটারি পুলিশ আটকে দেয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তাদের কাফরুল থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

তবে পুলিশ বলছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ডিবির একটি টিম কাফরুলের ইব্রাহিমপুরের একটি ক্লাবে মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। ওই ক্লাব থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক আটক করা হয়। এ সময় চারজনকে আটক করে পুলিশ। ওই সময় কাফরুল এলাকার ক্যান্টনমেন্টের গেট দিয়ে যাওয়ার সময় আটক হওয়া চারজন গাড়ির ভেতর থেকে চিত্কার করে ওঠে। চিত্কার শুনে এমপি চেকপোস্টে কর্মরত সদস্যরা গাড়িটি আটকে দেন। এ সময় একজন বলতে থাকে, তারা ক্লাবে ঢুকে মারধর করে টাকা-পয়সা ও মোবাইল সেট ছিনিয়ে নিয়েছে। পরে ১১ জন পুলিশ সদস্যকে থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই ১১ জনের মধ্যে গিয়াস উদ্দিন নামের একজন ইন্সপেক্টরও রয়েছেন।

পরে এ ঘটনায় ডিএমপি থেকে তিন সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটি বুধবার থেকেই কাজ শুরু করে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তারা তদন্ত প্রতিবেদন দেবে।


মন্তব্য