kalerkantho


খুলনায় মহাসমাবেশে জাতীয় কমিটি

সুন্দরবনবিধ্বংসী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে দেব না

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

খুলনা অফিস   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



সুন্দরবনবিধ্বংসী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে দেব না

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে পরিবেশ ও সুন্দরবনবিধ্বংসী উল্লেখ করে এ প্রকল্প বাতিল করতে আবারও সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে উপকূলীয় মহাসমাবেশে এই দাবি জানানোর পাশাপাশি জাতীয় কমিটি এ নিয়ে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

মহাসমাবেশে জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সুন্দরবন রক্ষায় আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। কোনো অবস্থায়ই রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে দেওয়া হবে না। ’

মহাসমাবেশ থেকে জাতীয় কনভেনশন, মানববন্ধন এবং সভা-সমাবেশসহ বেশ কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলে জেলা-উপজেলায় সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগ। মে মাসে সরকারের ব্যয়বহুল পরিবেশবিধ্বংসী, ঋণনির্ভর বেশি দামের বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনার বিপরীতে সুলভ, পরিবেশবান্ধব, ঋণ বা অপচয়মুক্ত ও দেশের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিকল্প বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন ও দেশব্যাপী তা নিয়ে জনমত গঠন, ১৫ জুলাই দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে টেকসই পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থাননির্ভর উন্নয়নের পরিকল্পনা উপস্থাপন, ২৫ জুলাই শ্যামনগর থেকে শরণখোলা উপকূলীয় মানুষের মানববন্ধন এবং এর সঙ্গে সংহতি জানিয়ে দেশে-বিদেশের সংহতি, ৯ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনে যুক্ত সব দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, সংগঠন ও ব্যক্তিদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সুন্দরবন কনভেশন।

বক্তব্যে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তাঁর ওপর আস্থা রাখতে বলেছেন; কিন্তু আমরা আস্থা রাখতে পারছি না। তিনি ও তাঁর সরকার মিথ্যাচার ছড়িয়ে রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবনবিনাশী অপতত্পরতা অব্যাহত রেখেছে। সুন্দরবনবিধ্বংসী প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হলেও প্রায় ৫০ লাখ মানুষ জীবন-জীবিকা হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। পাঁচ কোটি মানুষকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে অরক্ষিত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হবে।

’ তিনি বলেন, ‘ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণের বোঝা চাপবে বাংলাদেশের ঘাড়ের ওপর। ভারতীয় কম্পানি হ্যাবি ইলেকট্রিক কম্পানি নির্মাণকাজ করে মুনাফা পাবে। তাদের কম্পানি কয়লা জোগান দিয়ে মুনাফা করবে। আর এক্সিম ব্যাংক ঋণের ব্যবসা করবে। বাংলাদেশের ভাগে থাকবে শুধু লোকসান ও সর্বনাশ। ’

জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব বলেন, ‘সারা বিশ্ব এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভারতও তাদের সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দিচ্ছে। আর আমাদের সরকার এখন ভারত-চীনের বাতিল প্রকল্প ও প্রকল্পের লোকজনকে এ দেশে পুনর্বাসিত করছে। সুন্দরবন শুধু এ দেশের সম্পদ নয়, এটি বিশ্বের অন্যতম সম্পদ। তাই দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এর ক্ষতি বুঝতে পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। আর আমাদের মাথা বিক্রি হওয়া বুদ্ধিজীবীরা এই ক্ষতিকে উন্নয়ন বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু সুন্দরবনের ক্ষতি হলে আমরা কেউ রক্ষা পাব না। ’

জাতীয় কমিটির খুলনার সংগঠক ও জেলা সিপিবির সভাপতি ডা. মনোজ দাসের সভাপতিত্বে মহাসমাবেশে আরো বক্তব্য দেন ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের টিপু বিশ্বাস, সিপিবির রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের বজলুর রশিদ ফিরোজ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির বহ্নিশিখা জামালী, বাসদ (মার্কসবাদী) শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণতন্ত্রী পার্টির সামছুল আলম, মোশাররফ হোসেন নান্টু, অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান, শহীদুল ইসলাম সবুজ ও নাছির উদ্দিন নাসু। মহাসমাবেশ পরিচালনা করেন কমিটির জেলা আহ্বায়ক এস এ রশীদ ও সদস্যসচিব মোস্তফা খালিদ খসরু।

সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে পরিবেশবিধ্বংসী রামপাল প্রকল্প বাতিল করে বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ উত্পাদনের আহ্বান জানান। মহাসমাবেশে খুলনাসহ আশপাশের জেলা, উপজেলা ও উপকূলীয় এলাকার কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়।


মন্তব্য