kalerkantho


রাজউকের জমিতে নিলার ব্যবসা!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



রাজউকের জমিতে নিলার ব্যবসা!

পূর্বাচল উপশহরে ভোলানাথপুরে ৩০০ ফুট সড়কের পাশে রাজউকের মালিকানাধীন প্রায় ৮০০ কোটি টাকার জমিতে গড়ে ওঠা নিলা মার্কেট। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জমি দখল করে নিজের নামে মার্কেট গড়ে তুলেছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসি আলম নিলা। এরই মধ্যে পজেশন বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অনেকে পজেশন কিনে আধাপাকা দোকানও তুলেছে। রাজউকের মাস্টারপ্ল্যানে পূর্বাচল ১ নম্বর সেক্টরের ওই জমিতে দেশের বৃহত্তম স্টেডিয়াম তৈরির কথা।

রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটি প্রভাবশালী মহল পূর্বাচলে আমাদের জমিতে মার্কেট নির্মাণ করেছে। বিষয়টি আমরা জানি। এটি মূলত স্টেডিয়ামের জায়গা। রাজউক এরই মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে জমিটি বরাদ্দ দিয়েছে। এখন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সংশ্লিষ্টদের জমিটি বুঝিয়ে দেব। ’

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা একাধিকবার উচ্ছেদের প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু পুলিশ না পাওয়ায় তা করতে পারিনি। সেখানে সরকারদলীয় এক নেত্রী প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় একের পর এক স্থাপনা তৈরি করছেন। এভাবে চলতে থাকলে তো জমি বেহাত হয়ে যাবে। ’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূর্বাচল উপশহরের ভোলানাথপুর এলাকায় ৩০০ ফুট সড়কের পাশেই রাজউকের প্রায় ৮০০ কোটি টাকার জমিতে গড়ে ওঠা নিলা মার্কেট বেশ জমজমাট। শাকসবজি, মিষ্টি, মাছ আর ফলমূলই মূলত বিক্রি হয় এখানে। এর সঙ্গে আছে বেশ কয়েকটি খাবারের হোটেল। মার্কেটে কাঁচা আর আধাপাকা শতাধিক দোকানঘর আছে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সোনার বাংলা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক সোহেল রানা জানান, প্রতিটি দোকানের পজেশন স্থানীয় লোকজন কিনে নিয়েছে। এরপর তারা দোকান তুলে ভাড়া দিচ্ছে। দোকানের ভাড়া কত—এ প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি।

পাশের আমানউল্লাহ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টটি বেশ সাজানো-গোছানো। মালিক আমানউল্লাহ বলেন, ‘আমরা ভাড়া ও বিল আলাদ দিই। মার্কেট পরিষ্কার করার জন্য আলাদা টাকা দিতে হয়। ’ সরকারি জমিতে কিভাবে মার্কেট হলো—জানতে চাইলে আমানউল্লাহ বলেন, ‘শুনেছি এ জমি নাকি নিলা আপা বরাদ্দ নিয়েছেন। তাই আমরা টাকা খরচ করে দোকান তুলেছি। এখন যদি সরকার ভেঙে দেয়, তাহলে তো ক্ষতিগ্রস্ত হব। ’

৩০০ ফুট রাস্তাটি বেশ সুন্দর। দুই পাশের দৃশ্যও মনোরম। রাজধানীসহ আশপাশের এলাকার বহু মানুষ এ এলাকায় ঘুরতে আসে। ফলে নিলা মার্কেটটি সব সময় বেশ জমজমাট থাকে। এ কারণে মার্কেটের একেকটি পজেশন পাঁচ লাখ টাকায়ও বেচাকেনা হয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিলা ছাড়াও তাঁর স্বামী শাহ আলম ফটিক এবং তাঁদের সহযোগীরা প্রতিদিন সেখানে বসে। এর জন্য একটি অফিস নির্মাণ করা হয়েছে।

জানা যায়, মার্কেট ঘিরে ভোলানাথপুরসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদকের আস্তানা। স্থানীয়রা অভিযোগ করে, নিলা মার্কেটের আশপাশে জুয়ার আসরও বসানো হচ্ছে। এসব আসরে প্রতিরাতে লাখ লাখ টাকা লেনদেন হয়। জুয়াড়িরা আসে রাজধানী থেকে। এ ছাড়া স্থানীয় লোকজনও থাকে। মাদক ও জুয়ার স্পট থেকেও প্রচুর টাকা আয় হচ্ছে। একটি সূত্র দাবি করেছে, ওই মার্কেট থেকে ফেরদৌসি আলম নিলার প্রতি মাসে দশ লাখ টাকা আয় হয়।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ফেরদৌসি আলম নিলা বলেন, ‘৩০০ ফিটের পাশে গড়ে ওঠা বাজারটি আমার নামে নয়। স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নিজেরা ধীরে ধীরে সেখানে বাজারটি জমিয়েছেন। সেখানে চাঁদা আদায়, মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর বসার কোনো সুযোগ নেই। আমরা জমিটি রাজউকের কাছ থেকে বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা করছি। ’


মন্তব্য