kalerkantho


রাষ্ট্রপতি ভবনে স্বাগত জানাবেন প্রণব ও মোদি

প্রধানমন্ত্রীকে বিরল সম্মাননা জানানোর প্রস্তুতি ভারতে

মেহেদী হাসান   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রীকে বিরল সম্মাননা জানানোর প্রস্তুতি ভারতে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে বিরল সম্মাননা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে তিনি আগামী ৭ থেকে ১০ এপ্রিল দেশটি সফর করবেন। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ সফরের সময় তাঁর সরকারি বাসভবনে থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে ভারতীয় রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকবেন।

সরকারি সূত্রগুলো জানায়, শেখ হাসিনাকে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করবেন প্রণব মুখোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হবে।

জানা গেছে, শেখ হাসিনার সম্মানে নরেন্দ্র মোদি মধ্যাহ্নভোজ সভার আয়োজন করছেন। অন্যদিকে প্রণব মুখোপাধ্যায়ও দেবেন রাষ্ট্রীয় ভোজসভা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কে নতুন এক অধ্যায় রচনা করবে। বহুল প্রত্যাশিত এ সফর দুই দেশের জনগণের প্রত্যাশার অনেক ইতিবাচক প্রাপ্তির পথ দেখাবে।

প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে নিয়মিত সফর বিনিময় হচ্ছে।

গত বছর বাংলাদেশের নৌ ও বিমান, সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও কোস্ট গার্ডের প্রধানরা ভারত সফর করেছেন। গত ডিসেম্বরে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, উভয় দেশ প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা জোরদারে কাজ করছে। এবারের সফরে মোদির সঙ্গে আলোচনায় এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আসবে। বাংলাদেশি সূত্রগুলো জানায়, প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তথ্য-প্রযুক্তি, তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ ও বেসামরিক পারমাণবিক সহায়তা বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

পানি ইস্যুকে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা ভারত অবগত। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে অভিন্ন নদনদীর পানিবণ্টন, গঙ্গা ব্যারাজ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারত স্থল ও সমুদ্রসীমা নির্দিষ্ট করেছে। শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সমুদ্র এলাকায় নিরাপত্তা বিষয়ে আরো সহযোগিতার কাঠামো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ভারত এরই মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ঋণ রেখার (লাইন অব ক্রেডিট, এলওসি) আওতায় বাংলাদেশকে ৩০০ কোটি ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। প্রথম এলওসির ২০ কোটি ডলার বাংলাদেশ পদ্মা সেতু প্রকল্পে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশে বেশ কটি টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।   রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে দেশটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এ ধরনের আরো বেশ কিছু প্রকল্প বিবেচনাধীন রয়েছে।

ভারত বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ‘শুল্ক ও কোটামুক্ত’ প্রবেশাধিকার সুবিধা দিয়েছে। ফলে সেখানে রপ্তানি বাড়ছে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে শিগগিরই তা ১০০ কোটি ডলারের মাইলফলক ছোঁবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বাংলাদেশ ও ভারত—উভয়েই এ অঞ্চলে দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরো বাড়লে তাতে উভয় দেশ তথা পুরো অঞ্চলই লাভবান হবে।

এ ছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করার প্রস্তুতি চলছে। গতকাল ঢাকায় এ বিষয়ে সচিব পর্যায়ে ভারত-বাংলাদেশ জ্বালানি সংলাপ হয়েছে।

জানা গেছে, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশের (জিএসবি) সঙ্গে জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (জিএসআই) সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে। এর আওতায় ভারত ও বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ বিষয়ে পরস্পরকে তথ্য জানাবে। এ ছাড়া ভারতীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী কম্পানি ওএনজিসির সঙ্গে অগভীর সাগরে ব্লক-৪ ও ব্লক-৬-এ তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, কুতুবদিয়ায় স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বিষয়ে এমওইউ স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এবং ভারতের পক্ষে দেশটির পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের সচিব কপিল দেব ত্রিপাঠি।

 


মন্তব্য