kalerkantho


রোহিঙ্গাদের ফেরার সুযোগের সুপারিশ আনান কমিশনের

ঢাকা-নেপিডো সুসম্পর্কের তাগিদ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রোহিঙ্গাদের ফেরার সুযোগের সুপারিশ আনান কমিশনের

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ এবং তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে দেশটির প্রতি সুপারিশ করেছে কফি আনান কমিশন। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশনের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়। সুপারিশে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিশন আগামী আগস্ট মাসে পূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানে কৌশল প্রণয়ন, সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এবং আন্ত সম্প্রদায় সংলাপের তাগিদ দেওয়া হয়।

গতকাল আনান কমিশনের ১৫ পৃষ্ঠার ওই অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্দেশীয় সন্ত্রাস ও অন্যান্য বিপদ প্রতিরোধের জন্য প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা থাকা প্রয়োজন। কমিশন তার প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, অবাধ চলাচল এবং মিয়ানমারের রাজনীতিতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের সুপারিশ করে।

প্রতিবেদনের সীমান্ত ইস্যু ও বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অনুচ্ছেদে কমিশন দুই দেশের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে অনতিবিলম্বে একটি ‘যৌথ কমিশন’ গড়ার সুপারিশ করেছে। আনান কমিশনের মতে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ কমিশনের অন্তত তিন মাসে একবার করে বসা উচিত। মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থীদের যৌথ যাচাইপ্রক্রিয়া শেষে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া, মানব ও মাদক পাচার প্রতিরোধে ওই কমিশনের কাজ করা উচিত। এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসন মোকাবেলায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে যৌথ কৌশল প্রণয়নেরও সুপারিশ করেছে আনান কমিশন।

সুপারিশে আরো বলা হয়, রোহিঙ্গারা ফিরে যাওয়ার পর মিয়ানমার সরকারকে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ঘরবাড়ি তৈরি করে দিতে হবে। আনান কমিশন মনে করে, আন্ত সম্প্রদায় সংলাপের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং মিয়ানমারের জনজীবনে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও ধ্বংসের চক্র থামাতে সহায়ক হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাগরিকত্ব না থাকায় রোহিঙ্গারা বৈষম্য ও অবিচারের শিকার হচ্ছে। মিয়ানমার সরকারের উচিত অনতিবিলম্বে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ ও দক্ষ একটি কৌশল প্রণয়ন করা এবং সেটি বাস্তবায়নে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া। কৌশলটি রাখাইন ও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছে কমিশন।


মন্তব্য