kalerkantho


ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞাও আদালতে আটকে গেল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞাও আদালতে আটকে গেল

ছয়টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংশোধিত নিষেধাজ্ঞাও আটকে দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টা আগে বুধবার রাতে হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতের বিচারক ওই নির্বাহী আদেশের কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ দেন।

ট্রাম্পের সংশোধিত নির্বাহী আদেশে ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন, সুদান, লিবিয়া ও সোমলিয়া এই ছয় মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে ৯০ দিনের এবং শরণার্থীদের ওপর ১২০ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আদালতের এই রায়ের ফলে ওই নির্বাহী আদেশ কার্যকর আটকে গেল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আদালতের এই স্থগিতাদেশকে ‘অভূতপূর্ব বিচারিক কৌশল’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আদালতের এই আদেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আরো দুর্বল’ করবে। বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।

হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট জাজ ডেরিক ওয়াটসন বুধবার ট্রাম্পের দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশের কার্যকারিতা অবিলম্বে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের এই নির্দেশ শুধু হাওয়াই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সব সীমান্ত বন্দরের জন্য কার্যকর বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। ৪৩ পৃষ্ঠার দীর্ঘ রায়ে বলা হয়, বিশেষ ধর্ম ও দেশকে লক্ষ্য করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি মার্কিন সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী।

ওয়াটসন বলেন, সরকার জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চাইছে তা ‘প্রশ্নবিদ্ধ’। হাওয়াই আদালতে নির্বাহী আদেশের ফলে রাজ্যের পর্যটন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, নাগরিকদের পরিবারের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা বাড়বে বলে যুক্তি তুলে ধরা হয়। আদালত বিভিন্ন সময় দেওয়া ট্রাম্পের মুসলিমবিরোধী বক্তব্যও উল্লেখ করেন। হাওয়াই ছাড়া আরো দুটি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে বুধবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াশিংটন ও মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের নির্দেশ আসার আগেই হাওয়াইয়ের আদালতের রায় এলো। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল বব ফার্গুসন হাওয়াই আদালতের রায়কে ‘চমৎকার খবর’ বলে অভিহিত করেন। ক্যালিফোর্নিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, ওরেগন অঙ্গরাজ্যেও ট্রাম্পের সংশোধিত নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চলছে।

ট্রাম্প হাওয়াই ফেডারেল আদালতের স্থগিতাদেশকে ‘অভূতপূর্ব বিচারিক কৌশল’ বলে অভিহিত করেছেন। টেনেসির ন্যাশভিলে এক সমাবেশে আদালতের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আদালতের এই আদেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আরো দুর্বল’ করবে। তিনি জানান, দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশটি প্রথমটির চেয়ে কম কঠোর ছিল। এ আদেশ জারির ক্ষেত্রে দেশের নিরাপত্তার জন্য সংবিধানে দেওয়া তাঁর ক্ষমতাকে তিনি ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এর জন্য যত দূর যেতে হয় যাব, এমনকি সুপ্রিম কোর্টেও যাব এবং আমরা অবশ্যই জিতব। ’

এদিকে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ স্থগিত হওয়ায় উদারনৈতিক সংগঠনগুলো সন্তোষ প্রকাশ করেছে। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে মুসলমানদের আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে চেয়েছেন, তা পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, প্রথম দফা নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। বিষয়টি আদালতে গড়ালে ওই নির্বাহী আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে পড়ে। সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার পরিবর্তে ট্রাম্প ওই আদেশ সংশোধন করে গত ৬ মার্চ দ্বিতীয় দফা নির্দেশ জারি করেন। তাতে নিষিদ্ধের তালিকা থেকে ইরাকের নাম বাদ দেওয়া হয়। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী বাকি ছয়টি দেশ ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন, সুদান, লিবিয়া ও সোমালিয়ার ওপর ৯০ দিনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে এবং শরণার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ রাখা হয় ১২০ দিন।

এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে গত সপ্তাহেই মামলা করে হাওয়াই অঙ্গরাজ্য। জানুয়ারিতে ট্রাম্পের প্রথম নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধেও মামলা করেছিল এই অঙ্গরাজ্যটি। যুক্তরাষ্ট্রের যে কটি রাজ্য মুসলিমদের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা বন্ধের চেষ্টা চালাচ্ছে হাওয়াই তার মধ্যে অন্যতম। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।


মন্তব্য