kalerkantho


পীরসহ নারী মুরিদ খুন

পুলিশ অন্ধকারে তিন দিনেও রহস্য উদ্‌ঘাটিত হয়নি

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পুলিশ অন্ধকারে তিন দিনেও রহস্য উদ্‌ঘাটিত হয়নি

পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী

দিনাজপুর বোচাগঞ্জে কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী ও নারী মুরিদ রুপালী বেগম হত্যার ঘটনার তিন দিন পার হলেও এখনো খুনের রহস্য বা খুনি চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে তাদের কাছ থেকে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ বু্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত সুপার মধুসূদন রায় জানান, আটক পীর, খাদেম এবং মুরিদকে (আটক তিনজনকে) জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা অংশ নেননি। তবে খুনের ধরনের বিষয়টি নিয়ে এগোচ্ছেন তাঁরা। উদ্ধার করা পিস্তলের ৭ পয়েন্ট ৬৫ এমএম গুলির খোসা পরীক্ষা ছাড়াও অন্য আলামত খুঁজছেন তাঁরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ জানান, আটক তিনজনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের তদারক করছেন পুলিশ সুপার হামিদুল আলম। রহস্য ভেদ হলে গণমাধ্যমকর্মীদের তা জানাবেন তাঁরা।

বোচাগঞ্জ থানার পরিদর্শক আরজু মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাতে মেয়ে ফাতিহা ফারহানা এ্যামির দায়ের করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

জড়িতদের গ্রেপ্তার সম্ভব হবে বলে আশা তাঁর।

গত সোমবার বোচাগঞ্জের দৌলায় কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরিফের কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী ও দরবারকর্মী নারী মুরিদ রুপালী বেগমকে গত সোমবার সন্ধ্যায় কুপিয়ে এবং গুলি করে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পাথরডুবি গ্রামের বাড়ি থেকে আটক করে আনা কথিত পীর ইছাহাক আলীকে গত বুধবার রাতে দিনাজপুরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তাঁর কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনি চিহ্নিত করার কোনো তথ্য-উপাত্ত উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। নিহত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর দরবারের খাদেম সাইদুর রহমান এবং সমর আলীর মুখ পাওয়া তথ্য আমলে নিয়ে মিলিয়ে দেখছে পুলিশ।

জানা যায়, পীরানি পথে পা বাড়ানোর আগে ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তিনি পেশাদার সফল ব্যবসায়ী, তখন তাঁকে হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হয়েছিল। ওই সময়ে লাইসেন্সসহ অস্ত্র কিনতে হয়েছিল তাঁকে।

স্ত্রী ইয়ামীন আরা চৌধুরীর ভাষ্য মতে, ২০০৫ সালে দিনাজপুর পৌরসভার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ফরহাদ হোসেন চৌধুরী। ওই সময় তিনি মহিলাবিষয়ক মন্ত্রী বেগম খুরশিদ জাহান হক (চকলেট আপার) প্রিয়ভাজন ছিলেন। তবে পৌর নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয় আসেনি তাঁর। সাত দিনের মধ্যে দলটির পৌর কমিটির সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। পরে রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে সোহরাব হোসেন নামের এক পীরের সাহচার্যে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। লালমনিরহাটে পীর হিসেবে দরগাহ শরিফ রয়েছে সোহরাব হোসেনের। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর কথিত পীর ইছাহাক আলীর কাছে দীক্ষা নিয়ে বোচাগঞ্জে কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরিফ প্রতিষ্ঠা করেন ফরহাদ চৌধুরী।


মন্তব্য