kalerkantho


বইমেলা

বইয়ের রাজ্যে শিশুর রাজত্ব

নওশাদ জামিল   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বইয়ের রাজ্যে শিশুর রাজত্ব

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও শিশু দিবসে শিশু একাডেমিতে শুরু হওয়া বইমেলায় শিশুরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নতুন বইয়ের রাজ্যে চলছে শিশুদের রাজত্ব। আনন্দ-উচ্ছ্বাস নিয়ে ওরা ঘুরে বেড়াচ্ছে স্টল থেকে স্টলে। কিনে নিচ্ছে পছন্দের রঙিন সব বই। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে ছোট-বড় প্রায় ৫০টি প্রকাশনীর স্টল। প্রতিটি স্টলে শুধুই শিশু-কিশোরদের বই। শিশু-কিশোরের মধ্যে সত্য, সুন্দর ও জ্ঞানের বার্তা পৌঁছে দিতে এবং ওদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে এই আয়োজন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ এই বইমেলার।

বসন্ত বিদায়ের এই সময়ে গতকাল বৃহস্পতিবার গাছগাছালি ঘেরা শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই ভেসে এলো কচি কণ্ঠের হুল্লোড় আর উচ্ছ্বাসধ্বনি। শিশু-কিশোরদের পদচারণে মুখর পুরো প্রাঙ্গণ। কেউ কেউ এসেছে দল বেঁধে। কেউ বা অভিভাবকের হাত ধরে।

কচি প্রাণের উচ্ছ্বাসমুখর উত্সবের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয় এই মেলার। ১১ দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।

শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কবি কাজী রোজী এমপি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম এনডিসি এবং বরেণ্য সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল। স্বাগত বক্তব্য দেন শিশু একাডেমির পরিচালক আনজীর লিটন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রকাশক মিজানুর রহমান ও শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন।

মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা এই সুন্দর বাংলাদেশ পেতাম না। বঙ্গবন্ধু শিশুদের ভালোবাসতেন। এ জন্যই তাঁর জন্মদিনে শিশুদের জন্য এমন আয়োজন। ’ শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে, দেশকে জানতে হলে বই পড়তে হবে। বই পড়ে জ্ঞানে-গুণে বড় মানুষ হতে হবে। ’ সার্কভুক্ত দেশগুলোর অংশগ্রহণের মাধ্যমে আগামী দিনে ছোটদের আন্তর্জাতিক বইমেলা আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

শিশুদের উদ্দেশে মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘তোমরা এই মেলা ঘুরেফিরে দেখবে, বই কিনবে। শুধু কিনবেই না, বন্ধুদের কাছ থেকে বই নিয়েও পড়বে। আবার তোমার কেনা বইও তাদের পড়তে দেবে। ’

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, আগ্রহ নিয়ে স্টলে স্টলে ঘুরছে শিশু-কিশোররা। তাম্রলিপি প্রকাশনীর স্টলে পছন্দের বইটি খুঁজছিল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়েম আফজাল চৌধুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার উদয়ন স্কুলে পড়ে সে। মায়ের হাত ধরে এসেছে বইমেলায়। উচ্ছ্বাস নিয়ে সায়েম বলল, ‘রূপকথা আর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বই আমার সবচেয়ে প্রিয়। পছন্দ করে বই কিনতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ’

ছয় বছরের হিল্লোলকে নিয়ে মেলায় এসেছিলেন অভিভাবক সৈয়দ মোবাশ্বের হোসেন। কালের কণ্ঠকে বললেন, ‘অমর একুশে বইমেলায় শিশুদের বই পাওয়া গেলেও সেখানে প্রচুর ভিড় হয়। বই খুঁজে নিতে ঝামেলা হয়। এখানে সেই ঝামেলা নেই। এখানে শুধু ওদের জন্য বই। ফলে সহজেই মিলছে সব বই। ’

সপ্তমবারের মতো আয়োজিত এই মেলায় ৫০টি প্রকাশনাপ্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মেলায় বিভিন্ন প্রকাশনাপ্রতিষ্ঠানের শিশুতোষ বইয়ের পাশাপাশি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বইও রয়েছে। আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিনগুলোতে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।


মন্তব্য