kalerkantho


রাজধানীতে বাড়ির সামনে নারী ব্যাংককর্মী খুন

সিসি টিভির ফুটেজে হত্যাকারীর ছবি সাবেক স্বামী বলে সন্দেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রাজধানীতে বাড়ির সামনে নারী ব্যাংককর্মী খুন

আরিফুন নেছা আরিফা

রাজধানীর ধানমণ্ডির সেন্ট্রাল রোডে বাসার সামনে এক নারী ব্যাংককর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আরিফুন নেছা আরিফা (২৭) যমুনা ব্যাংকের পুরানা পল্টন শাখায় কর্মরত ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, আরিফার সাবেক স্বামী রবীন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পুলিশও বলছে, রবীনই যে আরিফাকে খুন করেছেন, তা ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা ফুটেজে প্রমাণ মিলেছে।   

নিহতের বড় ভাই আল আমিন বুলবুল কালের কণ্ঠকে বলেন, গতকাল সকাল পৌনে ৯টার দিকে সেন্ট্রাল রোডের আইডিয়াল কলেজ এলাকায় বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার জন্য বের হওয়ার পরপরই আরিফাকে তাঁর সাবেক স্বামী রবীন এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। গুরুতর আহত আরিফাকে উদ্ধার করে প্রথমে সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। দুপুর ১২টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আরিফার ঘাড়ে, বুকে ও হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।  

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ধারালো ছুরি আলামত হিসেবে জব্দ করেছে।

আরিফার পরিবার জানায়, ২০১৩ সালে আরিফা ও রবীন প্রেম করে বিয়ে করেন। তাঁদের দুজনের বাড়িই জামালপুরে। গত ডিসেম্বরে তাঁদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর থেকে আরিফাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন রবীন। ছাড়াছাড়ির পর আরিফা আইডিয়াল কলেজের পাশে সেন্ট্রাল রোডের ১৩ নম্বর চার তলা ভবনের নিচতলায় সাবলেট হিসেবে থাকতেন। রবীন থাকতেন মধ্যবাড্ডায়। আরিফাকে হত্যার ঘটনায় রবীনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে তাঁর স্বজনরা। কলাবাগান থানার ওসি ইয়াসির আরাফাত খান কালের কণ্ঠকে বলেন, আরিফার সাবেক স্বামী রবীনই যে তাঁকে হত্যা করেছেন, তা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অনেকটাই পরিষ্কার হওয়া গেছে। ঘটনার পরপরই রবীন পালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিসিটিভিতে যা দেখা গেল : সকাল তখন ৮টা ৪৪ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বাসার গেট দিয়ে বের হচ্ছেন আরিফা। ৮টা ৪৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে আরিফার সঙ্গে তাঁর সাবেক স্বামী রবীনও একই গেট দিয়ে বাসার দিকে হাঁটছেন। তাঁদের দুজনের হাতে হাঁড়ি, পাতিল, ফ্যান ও দুটি ব্যাগ। দুজন কিছুটা আগপিছ করে সামনে বাসার দিকে এগিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর ৮টা ৫১ মিনিটে রবীনকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়।

গতকাল দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, আরিফা যে বাসাটিতে থাকতেন, সেটির নিচতলার সিঁড়ি লাগোয়া দরজার সামনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ রয়েছে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট একটি রক্তমাখা ছুরি ও অন্যান্য আলামত জব্দ করছে। তখন ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‌্যাবের টিম ছিল।    

আরিফা যে ফ্ল্যাটে সাবলেট ছিলেন, সেই ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া তাসমিনা চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, “আমাদের বাসায়ই সাবলেট ছিল আরিফা। সকালে ঘুমিয়েছিলাম। পাশের রুম থেকে সে বের হয়ে যাওয়ার সময় দেখিনি। হঠাৎ ‘ও আল্লাহ, ও মা’ বলে চিৎকার শুনে বের হয়ে দেখি, আরিফা দরজার সামনে পড়ে আছে, তার শরীর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। এ সময় একটি লোককে দৌড়ে গেট দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখি। আরিফার পাশেই পড়েছিল হাঁড়ি-পাতিল ও দুটি ব্যাগ। এরপর সবাই মিলে দ্রুত তাকে সেন্টাল হাসপাতালে নিয়ে যাই। ’

তাসনিমা চৌধুরী আরো বলেন, ‘আরিফা ও তার মা প্রায় এক বছর ধরে সাবলেটে ছিল। গতকাল তার মা বাসায় ছিলেন না। আরিফার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী রবীনের বিরোধ চলছিল বলেই জানতাম। ’   

আরিফার খালাতো ভাই সুজন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আরিফাকে বিয়ের কিছুদিন পরই রবীন মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। প্রায়ই আরিফাকে মারধর করতেন রবীন। একপর্যায়ে তাঁরা আলাদা বাসায় থাকা শুরু করেন। গত তিন মাস আগে রবীনকে আরিফা তালাক দেন। ’

সুজন জানান, আরিফা যমুনা ব্যাংকের পল্টন শাখার মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ ছিলেন। তাঁর সাবেক স্বামী রবীন একটি সিমেন্ট কম্পানির (লাফার্জ) সেলস অফিসার ছিলেন। আরিফা ইডেন কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স পাস করেছিলেন।


মন্তব্য