kalerkantho


ত্রিমুখী কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ত্রিমুখী কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা

টানা চতুর্থ দিনের মতো গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি জানায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট করার দাবিতে চলমান আন্দোলনের পক্ষে-বিপক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে সংশ্লিষ্ট কলেজের শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও নিউ মার্কেট এলাকার হকাররা। তিন পক্ষের মুখোমুখি কর্মসূচিতে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি নাকচ করে বলেছেন, রাতারাতি কলেজটিকে ইনস্টিটিউট করা সম্ভব নয়। মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি ছেড়ে শনিবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

আন্দোলনের চতুর্থ দিনে গতকাল নিউ মার্কেট মোড় অবরোধ ও মহাসমাবেশ শেষে দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আর দাবি আদায়ের নামে রাস্তা অবরোধ করে জনগণের ভোগান্তির উল্লেখ করে এ দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। ওদিকে রাস্তা অবরোধের ফলে ব্যবসায় ক্ষতির কারণ দেখিয়ে আন্দোলনকারী কলেজ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সংশ্লিষ্ট এলাকার হকাররা।

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সকাল ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিলসহকারে নীলক্ষেত মোড়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। দুপুরে মহাসমাবেশের পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে রাস্তা থেকে সরে যায় তারা। আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র কলেজ শিক্ষার্থী তারিন সুলতানা শাম্মী এ সময় বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র ধরে ইনস্টিটিউট করার জন্য আমরা একটা যৌক্তিক সময় দিচ্ছি। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

আগামী শনিবার রাস্তা অবরোধ হবে না। আমরা কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করব। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। ’

ঢাবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন : গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে ঢাবির ইনস্টিটিউট করার দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ফেসবুকের মাধ্যমে গতকাল ক্যাম্পাসে একত্র হয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে তারা। সকাল ১১টায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে প্রায় হাজারখানেক শিক্ষার্থী ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধন করে।

পরে উপাচার্য বরাবর কয়েকটি দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজসহ অন্যান্য কলেজের অধিভুক্তি বাতিল, কলেজগুলোতে ঢাবির লোগো ব্যবহার বন্ধ ও নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অধিভুক্ত কলেজগুলোর সমাবর্তন না দেওয়া।

এ মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এম আমজাদ হোসেন বলেন, ‘ঢাবির শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ যৌক্তিক। ’ গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলেও পরে নিবৃত্ত করা হয়েছে। কিছু দাবি দিয়ে একটি স্মারকলিপিও দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। সেই বিষয়গুলো ভেবে দেখা হবে। কিছু দাবির বিষয়ে অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু করার নেই। আর উপাচার্য সময় দিলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা হবে। ’

হকারদের মিছিল : এদিকে রাস্তা অবরোধের কারণে ব্যবসায় ক্ষতির কারণ দেখিয়ে আন্দোলনের বিরোধিতা করে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকার হকাররা। দুপুর ১২টার দিকে গাউছিয়ার দিক থেকে একটি মিছিল বের করে হকারা। কয়েক শ হকারের উপস্থিতিতে মিছিলটি নিউ মার্কেট মোড়ের দিকে যেতে চাইলে বলাকা সিনেমা হলের সামনে পুলিশ আটকে দেয়। পরে তারা সেখানে বিক্ষোভ করে।

নিউ মার্কেট থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, দোকান মালিক সমিতির কর্মচারীরা এই আন্দোলন বানচাল করতে এলে পুলিশ বাধা দেয়। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

চাইলেই রাতারাতি ইনস্টিটিউট করা যায় না—শিক্ষামন্ত্রী : গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল বলেন, চাইলেই রাতারাতি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করা যায় না। তাদের চাহিদা অনুযায়ী গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়া হয়েছে। এ মুহূর্তেই প্রতিষ্ঠানটিকে ইনস্টিটিউট ঘোষণা করা যায় না। ছাত্রীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে ইনস্টিটিউট করা হলে ঢাবির অধিভুক্ত অন্য কলেজগুলোও আন্দোলনে নামলে তখন সরকার কী করবে। তাই সব কিছু বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।


মন্তব্য