kalerkantho


মুরিদসহ পীর হত্যা

আরেক কথিত পীরসহ আটক ৩

দিনাজপুর ও কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আরেক কথিত পীরসহ আটক ৩

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় নারী মুরিদসহ কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আরেক কথিত পীরসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার তাঁদের আটক করা হয়।

ফরহাদ চৌধুরী হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে বোচাগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন তাঁর মেয়ে ফাতিহা ফারহানা এ্যামি।

আটক ব্যক্তিরা হলেন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কথিত পীর ইছহাক আলী (৫৭), বোচাগঞ্জের দৌলা গ্রামের ফরহাদ চৌধুরীর প্রতিষ্ঠা করা কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরিফের খাদেম সাইদুর রহমান ও মুরিদ সমর আলী।

সাইদুরকে মঙ্গলবার রাতে এবং অন্যদের গতকাল আটক করা হয়। ইছহাক আলীকে ভূরুঙ্গামারীর পাথরডুবি ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথরডুবি গ্রামের বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তাঁর কাছে থেকে পীর হিসেবে দীক্ষা নিলেও পরে ফরহাদ চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর মতভেদ দেখা দেয়।

কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম জানান, দিনাজপুর পুলিশের নির্দেশনায় ভোর (বুধবার) সাড়ে ৪টার দিকে ইছহাক আলীকে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে দিনাজপুর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, ইছহাক আলীর কাছ থেকেই পীর হিসেবে দীক্ষা নিয়েছিলেন ফরহাদ চৌধুরী। পরে গুরুর সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে নিজ এলাকায় আলাদা দরবার খুলে একই তরিকার মাহফিল চালাতেন ফরহাদ চৌধুরী।

হত্যার পেছনে কারা জড়িত সে রহস্যভেদের চেষ্টা চালাচ্ছে জেলা পুলিশসহ গোয়েন্দারা। আটক তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে (রিমান্ড) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে বোচাগঞ্জের আটগাঁও ইউনিয়নের দৌলা গ্রামে ঘরে ঢুকে ফরহাদ  চৌধুরী (৬৫) ও তাঁর নারী মুরিদ রুপালি বেগমকে (১৮) কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। রাত ৯টার দিকে মুরিদরা দরবার শরিফের ভেতরে তাঁদের মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। হত্যার পর লাশ চাদর দিয়ে ঢেকে রেখেছিল দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে মঙ্গলবার সকালে খাদেম সাইদুর রহমান, মুরিদ জনি ও সুফিয়া বেগমকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে জনি ও সুফিয়া বেগমকে ছেড়ে দেওয়া হয়।  

বোচাগঞ্জ থানার পরিদর্শক আরজু মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, বাবা হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে বোচাগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন এ্যামি। মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে আসামি করা হয়নি। এখনো (গতকাল বিকেল পর্যন্ত) আটক তিনজনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তাও নিয়োগ হয়নি। হত্যার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ শুরু করেছে।

ফরহাদ চৌধুরীর স্ত্রী-সন্তান দিনাজপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ বালুয়াডাঙ্গা মহল্লায় বসবাস করে। স্বজনরা জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছে তারা। ওই বাসায় আজ বৃহস্পতিবার দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।


মন্তব্য