kalerkantho


এটিএম কার্ড জালিয়াতি

হোতা ১১ জনের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



হোতা ১১ জনের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজধানীর অভিজাত মার্কেটের দোকানে এটিএম কার্ড ব্যবহার করে প্রতারণায় জড়িত রয়েছে একটি চক্র। এ চক্রে বিদেশিরাও রয়েছে।

তাদের ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০। গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক এটিএম কার্ড ও কার্ড তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন, গত তিন বছরে তাঁরা এটিএম কার্ড দিয়ে পাঁচ-ছয় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক কার্ড জালিয়াতচক্রের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ রয়েছে।

গত ১০ মার্চ জান্নাতুল ফেরদৌস নামের একজন ব্যবসায়ী র‌্যাব-১০-এর কাছে অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র এটিএম কার্ড দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে। অভিযোগ পেয়ে তারা তদন্ত শুরু করে। র‌্যাব-১০-এর একটি দল গত মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে গতকাল সকাল ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। তারা প্রতারকচক্রের সদস্য জালাল হোসেন সুমন (২৭), শাহ্ আজিজ সোহেল (৩৬), মো. নূরে আলম (৪৫), মো. রানা (২৪), মো. জহিরুল ইসলাম (৩৭), মো. লুত্ফর রহমান সুজন (৪২), মো. পারভেজ (২৩), মো. ওয়াহেদ (২০), মো. আবদুল আলী (৪০), মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫) ও মো. কামরুজ্জামান সুমনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আরো যারা এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত রয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ’

গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন, এ চক্রের আইটি এক্সপার্ট শাহ্ আজিজ সোহেল। তিনি দীর্ঘদিন দুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন। সেখানে মার্কিন নাগরিক ইরিন লিমোর সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। তাঁর কাছ থেকেই সোহেল কার্ড জালিয়াতি/প্রতারণার বিষয়ে দীক্ষা নেন। ১০ বছর ধরে তিনি এটিএম কার্ডের মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছেন।

সোহেল ও রানার কাছ থেকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও বিশেষ কায়দায় গোপন নম্বর প্রবেশ করানোর যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আর জালাল হোসেন সুমন, জহিরুল ইসলাম, লুত্ফর রহমান সুজন, নুরে আলম ও কামরুজ্জামান সুমনের কাছ থেকে কার্ড তৈরির সরঞ্জাম, বিশেষ ধরনের প্রিন্টার, বিভিন্ন ব্যাংকের ২০০টি এটিএম (ডেবিট ও ক্রেডিট) কার্ড, এক হাজারটি ব্ল্যাংক কার্ড, ছয়টি কার্ড পাঞ্চিং মেশিন ও বিপুল পরিমাণ কার্ড তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এ ধরনের অপরাধের দায়ে বিদেশিসহ বেশ কয়েকজন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়।

 


মন্তব্য