kalerkantho


ঢাবির বিজয় একাত্তর হল

কর্মী তুলতে বাধা ছাত্রলীগের ভাঙচুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কর্মী তুলতে বাধা ছাত্রলীগের ভাঙচুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের পদ্মা ও যমুনা ভবনের বিভিন্ন কক্ষে জোর করে কর্মী তুলতে গিয়ে বাধা পেয়ে প্রাধ্যক্ষের অফিসসহ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করেছে হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় হলের আবাসিক শিক্ষকদেরও ধাওয়া দিয়েছে তারা।

এক সাংবাদিককেও মারধর করেছে।

গত সোমবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। গতকাল মঙ্গলবার প্রাধ্যক্ষ এ জে এম শফিউল আলম ভূইয়া জানান, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক মোহাম্মদ আসিফ হোসেন খানকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী আবাসিক শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক ও প্রয়াস রায়।

জানা যায়, ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিজয় একাত্তর হলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের আসনবিন্যাস হল প্রশাসন করে। ফলে ছাত্রসংগঠনগুলো ইচ্ছামতো হলের বিভিন্ন কক্ষে কর্মী তুলতে পারে না। তবে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অনেকবার সিট দখলের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু হল প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা সম্ভব হয়নি।

পরে হলের খেলার কক্ষটিকে গণরুম হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে ছাত্রলীগ। সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ছাত্র তোলে, যারা ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানায়, রাতে হলের উত্তর পাশের যমুনা ব্লক ও দক্ষিণ পাশের পদ্মা ব্লকের প্রত্যেক কক্ষে একজন-দুজন করে শিক্ষার্থী জোর করে তুলে দেয় হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফকীর রাসেল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক নয়ন হাওলাদারের অনুসারীরা। যে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কক্ষে তুলে দেওয়া হয়, তারা মূলত ছাত্রলীগের কর্মী। খবর পেয়ে কয়েকজন আবাসিক শিক্ষক হলে আসেন। তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও কাজ হয়নি। এ সময় এক শিক্ষককে ছাত্রলীগকর্মীরা ‘শিবির’ বলে ধাওয়া দেয়। পরে অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে গেলে তারা পালিয়ে যায়। এরপর ফের জড়ো হয়ে তারা শিক্ষকদের ধাওয়া দিয়ে হল থেকে বের করে দেয়।

রাত সোয়া ১টার দিকে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আ জ ম শফিউল আলম ভূইয়া হলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তিনি হলে নিজের কক্ষে ঢুকলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হলে মিছিল বের করে। একপর্যায়ে তারা প্রাধ্যক্ষের কক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। রাত  ৪টা পর্যন্ত হলের ভেতরের মাঠে অবস্থান নিয়ে তারা দফায় দফায় বিক্ষোভ করে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক এম আমজাদ আলী ও ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান প্রাধ্যক্ষের কক্ষে যান। তাঁরা হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ডেকে কথা বলেন এবং হলের ছাত্রদের কক্ষে ফিরে যেতে নির্দেশ দিতে বলেন। পাশাপাশি যেসব কক্ষে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ছাত্র তোলা হয়েছে, তাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনতে বলেন।

সাড়ে ৪টার দিকে হলের যমুনা ব্লকের ৫০০৩ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী ও বার্তা সংস্থা ইউএনবির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইমরান হোসাইনকে মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ভাঙচুরের ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ শেষে ইমরান তাঁর কক্ষে যাওয়ার উদ্দেশ্যে  লিফটে ওঠেন। লিফট থেকে বের হলে আগে থেকেই সেখানে থাকা নয়ন হাওলাদারের অনুসারীরা তাঁকে মারধর করে। একপর্যায়ের ইমরান জ্ঞান হারান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফকীর রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক নয়ন হাওলাদার বলেন, আসন না পাওয়া নতুন শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন কক্ষে উঠেছে। এতে তাঁদের কিছু করার ছিল না।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, ছাত্রলীগ আগে কখনো বিশৃঙ্খলাকারীদের প্রশ্র্রয় দেয়নি, এ ঘটনায়ও দেবে না।  

গতকাল রাতে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তোলন শেখ, সালাউদ্দিন, মাহফুজ আহমেদ, মাহির ও সাকিব নামের পাঁচ কর্মীকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।  

প্রাধ্যক্ষ শফিউল আলম ভূইয়া সাংবাদিকদের বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া যেসব শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন কক্ষে তুলে দেওয়া হয়েছে, তারা কেউ সেখানে থাকতে পারবে না।


মন্তব্য