kalerkantho


বিমানবন্দরের পাশে দুটি আন্ডারপাস তৈরি হবে

একনেকে ৫,২৩৯ কোটি টাকার সাত প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিমানবন্দরের পাশে দুটি আন্ডারপাস তৈরি হবে

দুর্ঘটনা ও যানজট এড়াতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সংযুক্ত করে দুটি আন্ডারপাস নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে একটি এবং হজ ক্যাম্প থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত আরেকটি আন্ডারপাস নির্মাণ করতে বলেছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় শেখ হাসিনা বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রেনে করে যারা বিমানবন্দর স্টেশনে এসে নামে তারা যাতে আন্ডারপাস দিয়ে সরাসরি বিমানবন্দরে যেতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে এসে যাত্রীরা আন্ডারপাস ব্যবহার করে রেলস্টেশনে যাতে যেতে পারে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে যাঁরা হজের উদ্দেশ্যে হজ ক্যাম্পে আসেন, তাঁরা যাতে ক্যাম্প থেকে সরাসরি বিমানবন্দরে যেতে পারেন সে জন্য আলাদা একটি আন্ডারপাস করা হবে। এতে করে ওই এলাকায় দুর্ঘটনা কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত সরকারের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন সিদ্দিক প্রধানমন্ত্রীকে জানান, বিমানবন্দর এলাকায় দুটি আন্ডারপাস নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। জায়গাটি রেলের হওয়ায় রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তাঁরা। তিনি এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। আন্ডারপাস নির্মাণে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে বলে জানান তিনি।

সড়ক বিভাগের সচিব বলেন, নিচে আন্ডারপাস হলেও ওপরে মার্কেট, হোটেল সবই থাকবে। মেট্রো রেল ও বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) সঙ্গে এ দুটি আন্ডারপাসের সংযোগ থাকবে বলেও একনেক সভায় জানানো হয়।

গতকালের একনেকে ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উন্মুক্ত স্থানের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়ন’ শিরোনামের একটি প্রকল্প থাকায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেয়র আনিসুল হক। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন,  ‘একসময় ঢাকার নাগরিকরা সাইনবোর্ডের কারণে আকাশ দেখতে পেত না। দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০ হাজার সাইনবোর্ড সরিয়েছি। ফুটপাত ছিল আট ফুট, এখন সেটি বাড়িয়ে করেছি ১৫ ফুট। ’ তিনি আরো বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে ঢাকার বাসাবাড়িসহ কোনো স্থানে রং হয় না। আমি রং দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার সৌন্দর্যবর্ধন ও লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ’ সিটি করপোরেশনের বাজেট কম উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উন্নয়ন ও সুবজায়নের জন্য টাকা চান।

একনেক সভায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপন শিরোনামের একটি প্রকল্প তোলা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ময়মনসিংহকে আমরা বিভাগ করেছি। তাই এ বিভাগেও একটি টিভি কেন্দ্র থাকা জরুরি। ’ আগের পাঁচটির সঙ্গে ময়মনসিংহেও একটি কেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশালে পূর্ণাঙ্গ টিভি কেন্দ্র হবে।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, একনেকে পাঁচ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট সাতটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে তিন হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। বাকিটা আসবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনাসচিব জিয়াউল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম এবং বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ বা আইএমইডির ভারপ্রাপ্ত সচিব মফিজুল ইসলাম।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উন্মুক্ত স্থানের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়ন’ শিরোনামের যে প্রকল্পটি পাস হয়েছে তার আওতায় ২২টি পার্ক, চারটি খেলার মাঠ করা হবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যস্ত এলাকায় ৭৩টি স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট, চারটি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসম্মত জবাইখানা নির্মাণ, ১৫টি ফুটওভার ব্রিজের উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত উন্মুক্ত ও সবুজ স্থান রেখে চারটি কবরস্থানের উন্নয়ন করা হবে।

গতকালের একনেক সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে আছে এক হাজার ২৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ মাটির রাস্তাগুলোকে টেকসই করার জন্য হেরিন বোন বন্ড (এইচবিবি), ৭৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে লিভারেটিং আইসিটি ফর গ্রোথ, ৪৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর পটুয়াখালী জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, ৭৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে ভূমি অধিগ্রহণ এবং ৩২১ কোটি টাকা ব্যয়ে যশোর-খুলনা জাতীয় মহাসড়কের যশোর অংশ যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্প।


মন্তব্য