kalerkantho


খালেদার প্রতি বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শ

রাজপথে নামুন নির্বাচনে যান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রাজপথে নামুন নির্বাচনে যান

বিএনপিপন্থী সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজপথে নেমে গণসংযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে আগামী নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতেও বলেছেন তাঁরা।

খালেদা জিয়ার অনুরোধে সারা দিয়ে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদসহ পাঁচজন বুদ্ধিজীবী রবিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। অন্যরা হলেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, মূলত অনেক দিন যোগাযোগ না থাকায় খালেদা জিয়া তাঁদের গুলশান কার্যালয়ে ডাকেন। আর এ সুযোগে তাঁরা বিএনপি নেত্রীকে কিছু পরামর্শ দেন। সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, গুলশান কার্যালয়ের এই ‘নিজস্ব অন্তরীণ অবস্থা’ থেকে তাঁকে বের হয়ে জনগণের কাতারে শামিল হতে হবে। জনগণকে দেশের অবস্থা তথা সরকারের গুম, খুন ও দুঃশাসনের কথা জানাতে হবে।

সূত্র মতে, এ পর্যায়ে সরকার বিভিন্নভাবে বাধাবিঘ্ন সৃষ্টি করে সভা-সমাবেশ বানচাল করছে খালেদা জিয়া এমন অভিযোগ তুললে বুদ্ধিজীবীরা বলেন, এ ধরনের সরকার ক্ষমতায় থাকলে এগুলো হবেই। কিন্তু এর থেকে বের হওয়ার পথ আপনাকেই তৈরি করতে হবে।

সূত্র মতে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকার বাইরে সফরে বের হবেন বলে এ পর্যায়ে জানান খালেদা জিয়া।  

আলোচনায় বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে এর জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেন বুদ্ধিজীবীরা। যুক্তি দিয়ে এ সময় উপস্থিত একজন বলেন, বিএনপি তো গলাকাটা পার্টি নয় যে, নির্বাচন করবে না। জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি আছে। তবে দেখতে হবে কতটা সুষ্ঠু হয়। জবাবে তাঁরা বলেন, কতটা সুষ্ঠু হয় তা মাঠে নেমে জনগণকে সম্পৃক্ত করলে বোঝা যাবে। সবার আগে এ জন্য জনগণের কাছে যেতে হবে।

সূত্র মতে, আলোচনায় সাম্প্রতিককালে প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তৃতার সমালোচনা করেন খালেদা জিয়া। বিশেষ করে গঙ্গার পানি বণ্টন প্রসঙ্গটি ভারত সফরকালে খালেদা জিয়া উত্থাপন করেননি বলে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ সম্পর্কে উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তিনি ওই বৈঠকের কার্যবিবরণী বুদ্ধিজীবীদের দেখিয়ে বলেন, দেখুন ওই সময় তিন বিঘা, তালপট্টি, গঙ্গার পানি বণ্টন ইস্যু সব কিছু নিয়েই আলোচনা হয়েছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী বলছেন, কিছুই আলোচনা হয়নি। এসব বিষয়ে আপনাদের প্রতিবাদ করা উচিত। জবাবে উপস্থিত বুদ্ধিজীবীরা এসব ইস্যুতে শিগগির সংবাদ সম্মেলন করে জনগণকে জানানোর পরামর্শ দেন। আলোচনাকালে ‘বিএনপির বিরুদ্ধে যায় বা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়’ এমন বক্তব্য সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে সতর্কতার সঙ্গে দেওয়ার অনুরোধ করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, আপনাদের বক্তৃতা ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়। অনেক সময় সরকারই এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে প্ররোচিত করে।

সূত্র মতে, বরাবরের মতো অলোচনার সুযোগ পেয়ে একজন মহিলা সেক্রেটারি নিয়োগের জন্য খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। একাকিত্ব দূরসহ দিনের কার্যসূচি সকাল থেকে শুরু করার জন্য ওই সেক্রেটারি কাজ করতে পারেন বলে পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত মোফাজ্জল করিমকে বিএনপিতে ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান ডা. জাফরুল্লাহ।


মন্তব্য