kalerkantho


তিস্তা ছাড়া অন্য কোনো চুক্তি মানা হবে না : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



তিস্তা ছাড়া অন্য কোনো চুক্তি মানা হবে না : ফখরুল

ফাইল ছবি

তিস্তা ছাড়া অন্য কোনো চুক্তি জনগণ মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘আজকের পত্রিকায় দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত এপ্রিলের ৮ তারিখে ভারতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী যখন যাবেন আমরা আশা করব, তিস্তা নদী এবং অন্যান্য নদীর পানিবণ্টন চুক্তি হবে। পানি ছাড়া এ দেশের মানুষ কিন্তু অন্য কোনো চুক্তি মেনে নেবে বলে মনে হয় না। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যেখানে জড়িত থাকবে, সে ক্ষেত্রে শুধু আমরা নই, গোটা দেশের মানুষ সেটা গ্রহণ করবে না। ’ 

গতকাল সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক যৌথ সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন। এ সময় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দলের সাত দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

ফখরুল বলেন, ‘আশঙ্কাটা শুধু আমাদের না, আশঙ্কাটা ভারতের পত্রপত্রিকায় বেশি বেরিয়ে এসেছে। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন, ভারতের পত্রপত্রিকায় বেশি এসেছে যে ২৫ বছরের চুক্তি আবার একটা হতে যাচ্ছে—এ ধরনের একটা খবর।

আমরা জানি না। আমরা সেই জন্য চাচ্ছি, গভর্নমেন্ট শুড কাম আউট উইথ দ্য কনটেন্ট যে সেখানে কী আলোচনা হতে যাচ্ছে।

এটা বলা উচিত। ’ তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১১ বছর ধরে আমরা আশা করে আছি যে আওয়ামী লীগ সরকার এসেছে, যেহেতু তাদের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে, তিস্তার পানিটা অন্তত পাব। আজ পর্যন্ত এক ফোঁটা পানি আমরা পাইনি। উপরন্তু প্রতিদিন আমাদের বর্ডারে সম্পূর্ণ আমাদের লোকজনকে বেআইনিভাবে হত্যা করা হচ্ছে। এ বিষয়গুলো আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রী যখন যাবেন তিনি এটা তাঁর নোটে নেবেন। ’

“হাওয়া ভবনে ‘র’-এর লোকজন বসে থাকতেন”—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, “পাবলিক পারসেপশন কিন্তু অন্য রকম আছে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনেই নাকি ‘তাঁরা’ বসে থাকেন। কারা বসে থাকেন, তা আমরা জানি না। এটা পাবলিক পারসেপশন। যদি তা-ই হয়, এ ব্যাপারে তাঁর ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি। তাঁকে সব কিছু চিন্তা করে কথা বলা দরকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আমরা সেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেখতে পাই না। তাঁর রাজনৈতিক স্বার্থে অবলীলায় মিথ্যাচার করার ফলে জাতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরিবর্তে আরো বিভক্ত হয়। দেশের মানুষের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক স্বার্থে যেটা বলা উচিত, সেটাই তাঁর বলা উচিত। ”

দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে বলতে চাই, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিপক্ষে যায় অর্থাৎ তার স্বার্থের সঙ্গে সংঘাত ঘটে, এ ধরনের কোনো চুক্তি বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। ’

নৌবাহিনীর জন্য চীন থেকে আনা দুটি সাবমেরিন প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘সাবমেরিন যদি ডুবে ঠিকমতো এবং আর যদি শত্রুপক্ষের জাহাজকে মারতে পারে, তাহলে ওয়েলকাম জানাই। ’

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাত দিনের কর্মসূচি বিএনপির : রাজধানীসহ সারা দেশে ‘স্বাধীনতা র‌্যালি’সহ সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, রাজধানীতে হবে ২৬ মার্চ বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘স্বাধীনতা র‌্যালি’। স্বাধীনতা দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে আছে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সিনিয়র নেতারা ২৬ মার্চ সকাল ৭টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এবং সকাল ৯টায় শেরেবাংলানগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন। ওই দিন সকালে নয়াপল্টনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, আলোকসজ্জা করা হবে। এ ছাড়া ওই দিন জাসাসের উদ্যোগে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যুবদলের উদ্যোগে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, ছাত্রদলের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া ২৭ মার্চ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। রিজভী জানান, এ বছর আলোচনাসভার পরিবর্তে দেশব্যাপী শোভাযাত্রা ও রচনা প্রতিযোগিতা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


মন্তব্য