kalerkantho


কুমিল্লায় যৌথ কর্মিসভা

‘প্রার্থীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হলে কঠিন পরিণতি’

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘প্রার্থীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হলে কঠিন পরিণতি’

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী বা নৌকার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেছেন, দিনে বলবেন নৌকা আর রাতের অন্ধকারে বলবেন বিপক্ষের কথা সেটা বরদাশত করা হবে না।

গতকাল সোমবার দুপুরে কুমিল্লা টাউন হলে জেলা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত যৌথ কর্মিসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কাজী জাফর উল্যাহ। তিনি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক। তাঁর নেতৃত্বে ২৭ জন কেন্দ্রীয় নেতা সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

কাজী জাফর উল্যাহ বলেছেন, আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল। প্রার্থী হওয়ার প্রতিযোগিতা থাকবে, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু নেত্রীর নির্দেশের বাইরে কেউ যদি নৌকার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করতে চান অনেক কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘অনেক বড় বড় নেতা নিজেকে অনেক বড় মনে করেন। কিন্তু নৌকা প্রতীক না থাকলে পরিণতি কী হবে সেটার কোনো গ্যারান্টি নেই। সে জন্য যাঁরা ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকতে চান, নৌকার ভালো চান, শেখ হাসিনার ভালো চান, আওয়ামী লীগের মঙ্গল চান, দয়া করে কোনো ভুল করবেন না।

শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত শতভাগ মেনে নৌকার জন্য নেমে পড়ুন। ’

কাজী জাফর উল্যাহর এই বক্তব্য কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে। কুমিল্লা আওয়ামী লীগে জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আফজল খান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের মধ্যকার বিরোধ অনেক দিনের এবং আলোচিতও। এবারের কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আফজল খানের মেয়ে আনজুম সুলতানা সীমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সিটি করপোরেশন এলাকার সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন বাহার সমর্থিত প্রার্থী মনোনয়ন পাননি। এতে করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সীমা নির্বাচনে বিজয়ী হবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে। বিষয়টি নিয়ে গত রবিবার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা ঢাকার ধানমণ্ডির কার্যালয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে কুমিল্লার শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না সংসদ সদস্য বাহার। পরে শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে গিয়ে দেখা করেন। সেখানে সংসদ সদস্য বাহার উপস্থিত ছিলেন।

কাজী জাফর উল্যাহ রবিবারের দুটি বৈঠকের কথা যৌথ সভায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘যখন ধানমণ্ডির কার্যালয়ে সভা করেছি সেখানেও বারবার একটি কথা এসেছে, সেটা হলো ঐক্য। আপনারা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারেন এমন কোনো শক্তি বাংলাদেশে নেই যে নৌকাকে এবং কুমিল্লাকে হারাতে পারে। ’

যৌথ কর্মিসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা রাশেদুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর প্রমুখ।

সভায় বাহারের সমর্থিত মনোনয়নপ্রত্যাশী কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা আরফানুল হক রিফাত বলেন, ‘কাজী জাফর উল্যাহ ও এনামুল হক শামীমের নেতৃত্বে কুমিল্লার আপামর জনসাধারণকে নিয়ে অবশ্যই আনজুম সুলতানা সীমাকে জনগণের চেয়ারে বসাব। এটা আমাদের মুখের কথা নয়, কাজ দিয়েই আমরা বোঝাব। ’

[জঞঋ নড়ড়শসধত্শ ংঃধত্ঃ: ]-ড়েইধপশ[জঞঋ নড়ড়শসধত্শ বহফ: ]-ড়েইধপশমেয়রপ্রার্থী মামুনের প্রার্থিতা বহাল : কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদের মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

গত ৫ মার্চ মেয়র পদে পাঁচজনের মধ্যে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মণ্ডল। বাতিল করেন মামুনুর রশিদের মনোনয়নপত্র। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি।

এদিকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) মনোনীত প্রার্থী শিরিন আক্তারকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বলেছে দলটি। এ ছাড়া প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) সোয়েবুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।


মন্তব্য