kalerkantho


বিএনপি নেতাদের প্রশ্ন

তারেকের কাছে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বসে থাকতেন কেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



তারেকের কাছে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বসে থাকতেন কেন

ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেছিল—প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে সমালোচনা করেছেন দলটির নেতারা। তাঁরা বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে ভারতকে গ্যাস দেয়নি।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১১তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে গতকাল রবিবার এক আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে বলছেন যে হাওয়া ভবনে যেখানে তারেক রহমান বসতেন, সেখানে ‘র’-এর এজেন্ট গিয়ে বসে থাকত; ইউএস এমবাসির লোকেরা গিয়ে বসে থাকত। কী ছিলেন তারেক রহমান? বিএনপি তখন বিরোধী দলে ছিল। বিরোধী দলের একজন খুব বড় কোনো পদের অধিকারী নন, এমন একজন মানুষের ওখানে গিয়ে শক্তিশালী দুটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বসে থাকবেন কেন? শেখ হাসিনা যদি এটা বিশ্বাস করে থাকেন, তাহলে যখন থেকে এটা তিনি অনুধাবন করেছেন তখন থেকেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে লেগেছেন। প্রতিনিয়ত তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করা হয়েছে।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত সভায় নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচন চায়, নির্বাচনের নামে কোনো খেলা দেখতে চায় না। দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকলে কোনো নির্বাচনী কর্মকর্তা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবেন না, নির্ভয়ে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ও ভোট দিতে পারবেন না। এ জন্যই আমরা নির্বাচনের সময় এমন একটি সহায়ক সরকার চাই, যে সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে। এটি জনগণের দাবি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য শওকত মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, তারেক রহমানের ওপর নির্যাতন শুধু জেলখানাতেই হয়নি, এখনো হচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকার অসংখ্য বৈঠকে আন্তর্জাতিকভাবে তাঁকে বাংলাদেশের রাজনীতির খলনায়ক প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে।

সংগঠনের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ফিরোজের পরিচালনায় আলোচনাসভায় ফজলুল হক মিলন, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরাফত আলী সপু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পৃথক আলোচনাসভায় বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আপনার (প্রধানমন্ত্রী) মান-অভিমান চলছে। কিন্তু সম্পর্ক আছে। আপনার বিদেশে প্রভু আছে, বন্ধু নয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত হস্তক্ষেপ করলে জনগণ তা মানবে না। সুতরাং বাংলাদেশকে বিক্রি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। ’ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনাকে বিশ্বাস করা যায় না। কারণ আপনি নির্বাচিত নন। জনগণের ভোট জনগণকে দেওয়ার অধিকার দিন। নির্বাচন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না। ’

গতকাল বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট : যাদু মিয়া’ শীর্ষক এই আলোচনাসভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ)। আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানির সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য