kalerkantho


সাতক্ষীরায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত

তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগ স্বজনদের

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সাতক্ষীরায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত

সাতক্ষীরার তালায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার ভোরে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের অবিনাশ ঘোষের আমবাগানে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের ভাষ্য, বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুজনের একজন চরমপন্থী সংগঠনের নেতা। অন্যজন তাঁর সহযোগী। এ ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্যও আহত হয়েছেন।

নিহত দুজন হলেন তালার মাগুরা ইউনিয়নের মাগুরাডাঙ্গা গ্রামের কানাই বাছাড়ের ছেলে বিদ্যুৎ কুমার বাছাড় ও সুজনসাহা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে শেখ কাহালা ওরফে তালহা। বিদ্যুৎ পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা ছিলেন। তাঁর নিজের নামেই একটি ‘বাহিনী’ আছে। তালহা বিদ্যুতের সহযোগী।

স্বজনরা দাবি করেছে, বুধবার রাতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকের কয়েক ব্যক্তি বিদ্যুৎ ও তালহাসহ তিনজনকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর এক ব্যক্তি নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে এক লাখ চান তাঁদের বাঁচাবেন বলে।

স্বজনরা অভিযোগ করে, বন্দুকযুদ্ধের নামে এ দুজনকে হত্যা করা হয়েছে।

তালা থানার ওসি হাসান হাফিজুর রহমান জানান, ডাকাতির জন্য একদল দুর্বৃত্ত শলাপরামর্শ করছে এমন খবর পেয়ে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রহিমাবাদের ওই আমবাগানে অভিযান চালায় পুলিশ। উপপরিদর্শক মোজাফফর ও নাজমুলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছতেই দুর্বৃৃত্তরা ককটেল হামলা চালায়, গুলিও ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি করে। প্রায় ১৫ মিনিট গোলাগুলির পর সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

ওসি জানান, এ ঘটনায় আহত দুই পুলিশ সদস্য হলেন সহকারী উপপরিদর্শক সফিউজ্জামান ও সিপাহি নাজমুল। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চারটি ককটেল, একটি রামদা, একটি ছেনি দা, একটি স্লাই রেঞ্জ, একটি হাতুড়ি, একটি গ্রিল ভাঙার যন্ত্র, দুটি গুলি, একটি গুলির খোসা, একটি ওয়ানগান শুটার ও বিস্ফোরিত বোমার অংশবিশেষ।

পুলিশ জানায়, দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় উপপরিদর্শক মোজাফফর রহমান বাদী হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে তালা থানায় পৃথক মামলা করেছেন।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বাছাড় পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক নেতা। সন্ত্রাসী হিসেবে পুলিশের তালিকাভুক্ত বিদ্যুতের বিরুদ্ধে তালা থানায় পাঁচটি ডাকাতি, তিনটি অস্ত্র মামলাসহ ১৩টি মামলা রয়েছে।

স্থানীয় একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, তালহা ছিলেন সন্ত্রাসী। তাঁর বাবা শেখ নুরুল ইসলাম ইসলামকাটি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন এবং দলটির সাবেক সংসদ সদস্য আনছার আলীর ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন।

তালহার ভাই তোহা গত বুধবার রাতে সুজন শাহ গ্রামের গোপাল দাসের বাড়ি থেকে তাঁর ভাইকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সংবাদকর্মীদের জানান।

গোপাল দাস জানান, গত বুধবার রাত ১২টার দিকে তাঁর বাড়িতে ছেলে পলাশ দাসের সঙ্গে বসে টেলিভিশন দেখছিলেন আত্মীয় বিদ্যুৎ বাছাড় ও একই গ্রামের তালহা শেখ। এ সময় সাদা পোশাকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে কয়েক ব্যক্তি তিনজনকেই ধরে নিয়ে যায়। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার জন্য গত শনিবার সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে যায় বিদ্যুতের ভাগ্নে উপজেলার পাটকেলঘাটা থানাধীন নিমতলা গ্রামের বিশ্বজিৎ সরকার। অবশ্য তিনি সংবাদ সম্মেলন না করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসেন।

বিশ্বজিৎ জানান, তাঁর মামা বিদ্যুৎ বাছাড় দুই মাস আগে কারাগার থেকে ছাড়া পান। বুধবার রাতে মামাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তিনজনকে বাঁচাবেন বলে এক লাখ টাকা দাবি করেন। রবিবার সকালে তাঁরা জানতে পারেন বিদ্যুৎ ও তালাহ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন।


মন্তব্য