kalerkantho


কেমিক্যাল কারখানার বিরুদ্ধে পুরান ঢাকায় অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কেমিক্যাল কারখানার বিরুদ্ধে পুরান ঢাকায় অভিযান

রাজধানীর পুরান ঢাকার কেমিক্যাল কারখানার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযান শুরু হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নেতৃত্বে চলা এই অভিযানে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনও অংশ নিয়েছে।

এ সময় দুটি প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ সোমবার তিনটি পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পুরান ঢাকার কয়েকটি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করবেন বলে জানা গেছে।

গতকাল রবিবার এই অভিযানের শুরুতে অগ্নিনির্বাপণ আইনের শর্ত ভঙ্গ করায় ইউনিক পলিমার নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকার শহীদবাগ ১ নম্বর গলিতে এ প্লাস্টিক কারখানার অবস্থান।

কারখানার মালিক আব্দুল করিমকে না পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী কুবাত আলীকে টাকা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। এ সময় পাশের একটি জুতা তৈরির কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ জব্দ করেন আদালত। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশিক উন নবী তালুকদার। আজ পুরান ঢাকার আগামসি লেন, শহীদনগর, নিমতলী, ইসলামবাগ ও চকবাজার এলাকায় তিনটি পৃথক আদালত অভিযান পরিচালনা করবেন।

গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় পুরান ঢাকার অবৈধ কেমিক্যাল কারখানার বিরুদ্ধে পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী ও ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ।

এ সময় সাঈদ খোকন বলেন, ‘পুরান ঢাকায় অনেক অবৈধ কেমিক্যাল কারখানা রয়েছে, যেগুলো থেকে বিভিন্ন সময় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এই আগুন অনেক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। কেমিক্যালের আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এই অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় এক মাস আগে ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, র‌্যাব, পুলিশসহ একযোগে অভিযান শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছি। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলররা তাঁদের নিজ এলাকায় থাকা অবৈধ কারখানার তালিকা তৈরি করে দিয়েছেন। সেই তালিকা ধরে আমরা অভিযান শুরু করেছি। ’ এর পর থেকে সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিসের লাইন্সেস, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কোনো কেমিক্যাল ব্যবসায়ীকে দেওয়া হবে না বলেও জানান মেয়র সাঈদ খোকন।


মন্তব্য