kalerkantho


অবশিষ্ট স্মার্ট কার্ড দেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে ছাপানো হতে পারে

কাজী হাফিজ   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



অবশিষ্ট স্মার্ট কার্ড দেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে ছাপানো হতে পারে

ফরাসি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ৯ কোটি ভোটারের জন্য উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট এনআইডি কার্ড) তৈরি করা হয়েছে। বাকি কার্ডগুলো দেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) মাধ্যমে তৈরি করা হতে পারে। বেশ কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

এখন নমুনা ছাপিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। দেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কার্ড ছাপানোর আগে ২০১৪ সালে ও পরে যাঁরা ভোটার হয়েছেন (প্রায় সোয়া কোটি) তাঁদের আপাতত সাধারণ কাগজে লেমিনেশন করা এনআইডি দেওয়া হবে।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। চুক্তি অনুসারে একটি ফরাসি কম্পানি আমাদের ৯ কোটি ব্ল্যাংক কার্ড সরবরাহ করেছে। বাকি কার্ড বিএমটিএফের মাধ্যমে প্রস্তুত করা যায় কি না তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে তাদের কার্ডের নমুনা সংগ্রহ, পুনঃসংগ্রহ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আমরা মানের ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রমাইজ করব না।

ফ্রান্স থেকে যে ধরনের কার্ড এসেছে সেই ধরনের কার্ডই দেশি প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহ করতে পারবে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ’

উল্লেখ্য, সরকার ২০১১ সালের ২০ জুলাই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সড অ্যাকসেস টু সার্ভিস প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি সই করে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ফরাসি কম্পানি অবারথু টেকনোলজির সঙ্গে ৭৯৬ কোটি ২৬ লাখ টাকার চুক্তি হয়। কাজের মেয়াদ ধরা হয় ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত। পরে মেয়াদ দেড় বছর বাড়ানো হয়।

উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্রে তিন স্তরে মোট ২৫টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকছে। এ ছাড়া স্মার্ট কার্ডের মধ্যে যে মাইক্রোচিপ দেওয়া থাকবে তাতে একজন নাগরিকের সব তথ্য পাওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে ২৫টি কাজে ব্যবহার করা যাবে স্মার্ট কার্ড। সরকারি সব অনলাইন সুবিধা, টিআইএন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, সম্পত্তি কেনাবেচা, ব্যাংক হিসাব খোলা, ব্যাংক ঋণ, সরকারি ভাতা উত্তোলন, বিআইএন, শেয়ার-বিও অ্যাকাউন্ট, ট্রেড লাইসেন্স, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, বীমা স্কিম, বিয়ের রেজিস্ট্রেশন, ই-পাসপোর্ট, ই-গভর্ন্যান্স, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ, মোবাইল সংযোগ, হেলথ কার্ড, ই-ক্যাশ, ব্যাংক লেনদেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রভৃতি কাজে ব্যবহার করা যাবে স্মার্ট কার্ড।

দেশে ভোটারের সংখ্যা ১০ কোটি ১৭ লাখের কাছাকাছি। এর মধ্যে প্রায় দেড় কোটি ভোটার ২০১৪ সালের হালনাগাদে বা পরে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। হালনাগাদের আগে দেশে ভোটারসংখ্যা ছিল ৯ কোটি সাড়ে ১৯ লাখ। ৯ কোটি ভোটারের স্মার্ট কার্ড হয়েছে, তবে এখনো সবাই হাতে পাননি। বাকিরা কবে কিভাবে স্মার্ট এনআইডি কার্ড পাবেন, এ প্রশ্ন অনেকের।

এ বিষয়ে ব্রি. জে. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, এসব ভোটার যাতে নাগরিক সুবিধা পেতে অসুবিধার মধ্যে না পড়েন সে জন্য আপাতত তাঁদের সাধারণ কাগজে লেমিনেশন করা এনআইডি দেওয়া হবে। গ্রাম এলাকায় এ কার্ড দ্রুত পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, প্রতিটি স্মার্ট কার্ড ছাপাতে ব্যয় হচ্ছে ১২০ টাকার কাছাকাছি। লেমিনেশন চার-পাঁচ টাকার মধ্যেই করা সম্ভব। বিতরণের জন্য আলাদা কোনো ব্যয় হবে না। থানা বা উপজেলা অফিসে কার্ড পৌঁছে দিলে নাগরিকরা নিজেরাই সংগ্রহ করে নেবে।

এদিকে স্মার্ট কার্ড জোগাড়ে অনেক নাগরিকের সাড়া মিলছে না। দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করার ভোগান্তির কারণে অনেকে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কার্ড সংগ্রহ থেকে বিরত থাকছেন। আবার বিতরণকেন্দ্রে হাজির হয়েও অনেকে কার্ড পাচ্ছেন না। তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তথ্যভাণ্ডারে তাঁদের তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় কার্ড ছাপানো যায়নি।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বলেন, নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পর কী পরিমাণ কার্ড বিতরণ হয়নি তা জেনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, যাদের তথ্য অসম্পূর্ণ তাদের পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করার পর স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত করা হবে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই আজ ১৩ মার্চ চট্টগ্রামে স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু হবে। এপ্রিলের শুরুর দিকে রাজশাহীতে এবং পরে খুলনা, সিলেট ও অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন।


মন্তব্য