kalerkantho


আদালতের আদেশ স্থগিত চেয়ে ট্যানারি মালিকদের আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আদালতের আদেশ স্থগিত চেয়ে ট্যানারি মালিকদের আবেদন

হাজারীবাগের সব ট্যানারির গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্নের বিষয়ে আদালতের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার জজের কাছে আবেদন করেছে ট্যানারি মালিকদের দুই সংগঠন। বাংলাদেশ ট্যানারস অ্যাসোসিয়েশন এবং বিএফএলএলএফইএ গত বৃহস্পতিবার এ আবেদন করে।

তাদের আবেদনের ওপর আজ রবিবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির কথা রয়েছে।  

বাংলাদেশ ট্যানারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরাতে জুন পর্যন্ত সময় চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন ট্যানারি মালিকরা। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ৩১ জানুয়ারির মধ্যে কাঁচা চামড়া হাজারীবাগে প্রবেশ নিষেধ করেছিলেন। আর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। বেলা তার আবেদনে শিল্প মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করেছে। এতে আমরা ট্যানারি মালিকরা এ বিষয়ে বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করতে পারিনি। ’ 

ট্যানারি মালিকদের আবেদনে উল্লেখ করা হয়ছে, ‘আদালতের কাছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আইনবিদ অনেক অসম্পূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেন। যেমন—তাঁরা বলেছেন সাভারে বর্জ্য শোধনের জন্য দুটি মডিউল প্রস্তুত রয়েছে।

তবে বাস্তবে দুটি মডিউল প্রস্তুত হয় নাই। তাঁরা বলেছেন সব কম্পোনেন্ট তৈরি। অথচ ডাম্পিং ইয়ার্ড, ক্রোম রিকভারি, মডিউল এখনো শেষ হয়নি। অনেক ট্যানারিতে বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয়নি, কোনো ট্যানারিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়নি। বিষয়গুলো আদালতকে জানাতে এ আবেদন করেছি। ’ 

আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ থাকলেও সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়নি। অগ্নিনির্বাপণের জন্য

ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, আর্থিক লেনদেনের সুবিধার জন্য একাধিক ব্যাংক শাখা স্থাপন, ডাক ও টেলিফোন সুবিধা, সমিতির কার্যালয় স্থাপন, শ্রমিক-কর্মচারীদের পানাহারের জন্য ক্যান্টিন ও প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র, প্রার্থনার জন্য মসজিদ নির্মাণ বাস্তবায়িত হয়নি। ট্যানারি স্থানান্তরের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৫০ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ দিলেও অর্থ বিতরণে নানা শর্ত আরোপ করায় এখনো ১৩৮ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়নি। কারখানা নির্মাণে ট্যানারি মালিকরা এরই মধ্যে দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা নির্মাণকাজে বিনিয়োগ করেছেন। যেসব প্লট গ্রহীতা জমির মূল্য বাবদ ১০ কিস্তি পরিশোধ করেছেন, তা বন্ধক রেখে স্বল্পসুদে ঋণ গ্রহণের সুবিধার্থে বারবার চিঠি দিয়ে সাভারের জমি ট্যানারি মালিকদের অনুকূলে রেজিস্ট্রির আবেদন করলেও তা রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে চামড়াশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।


মন্তব্য