kalerkantho


সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মিজারুল কায়েস চলে গেলেন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মিজারুল কায়েস চলে গেলেন

ব্রাজিলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস আর নেই। ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালে এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর বাংলাদেশ সময় গতকাল শনিবার সকাল ৬টার দিকে (ব্রাজিল সময় শুক্রবার রাতে) তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ‘মাল্টি অরগান ফেইলিওরে’র কারণে মিজারুল কায়েসের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেন।

মিজারুল কায়েস ১৯৮২ সালের বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি

ব্রাজিলে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে দুই বছর যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পররাষ্ট্রসচিব হওয়ার আগেই তিনি মালদ্বীপে হাইকমিশনার ও রাশিয়ায় রাষ্ট্রদূত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে সার্ক, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, আনক্লস ও বহিঃপ্রচার অনুবিভাগের দায়িত্বও পালন করেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ই মিজারুল কায়েস গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন।

ব্রাজিলে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় গত ১১ ফেব্রুয়ারি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ তিনি কোমায় ছিলেন। পরে তাঁর জ্ঞানও ফিরেছিল।

জানা গেছে, মিজারুল কায়েসের জন্ম ১৯৬০ সালের এপ্রিলে। কিশোরগঞ্জ জেলার এ সন্তান স্ত্রী ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য সমাদৃত মিজারুল কায়েস পড়ালেখা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ নানা পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউটে পড়িয়েছেন। চিত্রকর্ম সংগ্রহে তাঁর ছিল বিশেষ ঝোঁক। বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও চিত্র প্রদর্শনীতে তিনি বিচারক ও সমালোচকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সদস্য ছিলেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সঙ্গে তিনিও যুক্ত ছিলেন।


মন্তব্য