kalerkantho


কক্সবাজারের যুবদল নেতা ঢাকায় লাখ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও কক্সবাজার   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কক্সবাজারের যুবদল নেতা ঢাকায় লাখ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

নেজাম উদ্দিন

রাজধানীর গেণ্ডারিয়া থেকে এক লাখ পিস ইয়াবাসহ কক্সবাজারের এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তাঁর নাম নেজাম উদ্দিন। সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ গত শুক্রবার বিকেলে গেণ্ডারিয়ার স্বামীবাগে চালানো ওই অভিযানে শীপক মল্লিক ওরফে বুরং নামে তাঁর এক সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করে। নেজাম উদ্দিন কক্সবাজার জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। গত উপজেলা নির্বাচনে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে হেরে যান। তিনি টেকনাফ থেকে প্রাইভেট কারে করে ঢাকায় ইয়াবা নিয়ে এসে নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রি করেন। কক্সবাজার ও টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা ডিলারদের ঘনিষ্ঠ তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে মানবপাচারেরও অভিযোগ আছে। গতকাল তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। নেজামের মা মনজুমুন নাহার কক্সবাজার পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ‘জনপ্রতিনিধিরাই ইয়াবা কারবারি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক কালের কণ্ঠ।

তাতে কক্সবাজার ও টেকনাফের জনপ্রতিনিধিদের ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার তথ্য ছিল।

ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, গত শুক্রবার বিকেলে স্বামীবাগ থেকে প্রাইভেট কারসহ নেজাম ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছে স্কচ টেপ মোড়ানো বড় ১০টি প্যাকেটে এক লাখ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে ঢাকার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে।

সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘তারা স্বামীবাগে চালানটি হাতবদল করতে যাচ্ছিল। তার আগেই আমরা ধরে ফেলি। তাদের গাড়িটির মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। রিমান্ডে এনে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। এই গ্রুপে আরো লোক থাকতে পারে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত আছে। ’

স্থানীয় সূত্র জানায়, কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী এলাকায় নেজামের বাসা। তিনি আগে জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এরপর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক হন। নেজাম জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা করেন বলে এলাকার সবাই জানে। তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মালয়েশিয়ায় বেশি থাকেন। এর আগে পূর্ব তিমুরে লোক পাঠানোর কথা বলে তিনি অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ আছে। দেড় লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে টেকনাফের লেদা গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেন ও নবী হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন। একই অভিযোগ করেন টেকনাফের মৌলভীবাজার গ্রামের আলী আহমেদ। তবে তিনি মামলা করেননি।  

সূত্রগুলো বলছে, জনশক্তি ব্যবসা বা মানবপাচারে জড়িত থাকার সুবাদে টেকনাফের ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন নেজাম। কক্সবাজারের এক পৌর কাউন্সিলরের সঙ্গে মিলে তিনি প্রায়ই পার্টি দিতেন। এসব পার্টিতে ইয়াবা ব্যবসার বড় লেনদেন হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ছেলের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে জানতে কাউন্সিলর মনজুমুন নাহারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অপর প্রান্ত থেকে অন্য একজন ফোন ধরেন। তিনি বলেন, ‘মা ফোন ফেলে রেখে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। ’


মন্তব্য