kalerkantho


পশ্চিমা লঘুচাপে বৃষ্টি

কোথাও অস্বস্তি কোথাও স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কোথাও অস্বস্তি কোথাও স্বস্তি

ফ্লাইওভারের কাজ শুরুর পর থেকেই সড়কটি প্রায় পরিত্যক্ত। বিকল্প না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই চলছে যানবাহন। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা যেন মৃত্যুফাঁদ তৈরি করেছে। মৌচাক-রামপুরা সড়কের গতকালের দৃশ্য। ছবি : শুভ্র কান্তি দাশ

পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে বসন্তের বৃষ্টি ঝরবে, এমন পূর্বাভাস আগেই দিয়ে রেখেছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। মাঝখানে পাঁচ দিন বিরতি দিয়ে শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানীতে বর্ষণ শুরু হয়।

অবশ্য ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে এক দিন আগেই বৃষ্টি নামে। কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি, কখনো ঝুম। কতুবদিয়ায় সর্বোচ্চ ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে গতকাল সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়। আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিবছর বর্ষার আগে মার্চের শুরুর দিকে বৃষ্টি ঝরে পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে পুবালি বাতাসের সংমিশ্রণের কারণে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আজ রবিবার চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে। অবশ্য অবস্থার উন্নতি হবে দুপুরের পরে। এর আগ পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি ও হালকা বৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া কর্মকর্তা আরিফ হোসেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, দুপুরের পর থেকে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে আবহাওয়ার উন্নতি হবে। কয়েক দিন বিরতি দিয়ে মাসের শেষের দিকে আবারও বৃষ্টি নামবে বলে জানান আরিফ হোসেন।

আমাদের জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের বর্ষণে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বরিশালে ঝড়ে নৌকা ডুবে মনোয়ারা বেগম নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। অনেক জেলায় স্বস্তির বৃষ্টি ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিনস নৌ রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় চার শতাধিক পর্যটক আটকে আছে। আবার অনেক জেলায় বৃষ্টিকে আশীর্বাদ হিসেবেও দেখছে স্থানীয় লেকজন।

বরিশালে গৃহবধূর মৃত্যুর পাশাপাশি জেলার মুলাদী উপজেলায় ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলায় ২০টি বসতঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে গেছে। শুক্রবার আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে মুলাদী সদর ইউনিয়নের ২০টি ঘরের চাল উড়ে যায়। তিনটি খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতাহার মিয়া জানান, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে।

গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে চাঁদপুরে আলু, পেঁয়াজ ও মরিচের ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আলী আহম্মদ জানিয়েছেন, এখন জমি থেকে আলু তোলার সময়। হঠাৎ ভারি বৃষ্টিপাতে জেলার বিস্তীর্ণ আলুক্ষেত ডুবে গেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পানি না সরলে ব্যাপক ক্ষতি হবে। অবশ্য বৃষ্টির কারণে বোরো ধানের বেশ উপকার হয়েছে বলে জানান আলী আহম্মদ। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গিবাড়ী, সিরাজদিখানেও আলুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। লৌহজং উপজেলার চরাঞ্চলসহ নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় আলুচাষিদের মাথায় হাত পড়েছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রায় ৩৫ হাজার একর মাঠে লবণ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিন দিন ধরে এ অবস্থা বিরাজ করায় অনেক চাষি বিপদে পড়েছে।

পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে আসা বৃষ্টিকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখছে দিনাজপুর, রংপুর, লালমনিরহাটের জনগোষ্ঠী। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে গতকাল মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি হয়েছে। এতে গম, বোরো, আলু, ভুট্টা ও আম-লিচুর উপকার হয়েছে বলে কৃষকরা মনে করছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ফাত্তাহ রওশন কবীর বলেন, মাঠের সব ফসলের লাভ হবে এ বৃষ্টিতে। তবে গম পাকা পাঁচ-ছয় দিন পিছিয়ে যাবে। ঝড় না হলে এবার বোরো, গম, আলু, আম-লিচু, ভুট্টাসহ সব ফসলের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি জানান। নীলফামারীতেও বৃষ্টি স্বস্তি বয়ে এনেছে।

যখন প্রচণ্ড ধুলায় অতিষ্ঠ পথচারীসহ সাধারণ মানুষ; ঠিক সে সময়ে রংপুরে স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। শনিবার সকাল শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির বেগ বাড়তে থাকে। বাগেরহাটের মাঠে মাঠে বোরো ধানের কচিপাতা বাতাসে দোলা খাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির অপেক্ষায় ছিল চাষিরা। শেষ পর্যন্ত তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। বৃষ্টির পানিতে বোরো ধানের উপকার হবে। পাশাপাশি ভুট্টা, তরমুজসহ সব ধরনের সবজির ফলন ভালো হবে বলে জানিয়েছে বাগেরহাট কৃষি বিভাগ।

গতকাল ঢাকায় ৩৮, কক্সবাজারে ৬০, মাদারীপুরে ৫১, ফেনীতে ৫০ ও হাতিয়ায় ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।


মন্তব্য