kalerkantho


গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে বাঘের তিন শাবক

‘বিজয়, মাধবী ও বিলাসী’

শাহীন আকন্দ, গাজীপুর   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘বিজয়, মাধবী ও বিলাসী’

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রথমবারের মতো জন্ম নেওয়া বাঘের বাচ্চা। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রথম জন্ম নেওয়া বাঘের তিনটি শাবকের নাম দেওয়া হয়েছে। মহান স্বাধীনতার মাসে নামকরণ করায় ছেলে শাবকটির নাম রাখা হয় বিজয়। অন্য দুই মেয়ে শাবকের নাম রাখা হয়েছে মাধবী ও বিলাসী।

গত শুক্রবার বিকেলে পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে মিষ্টি খাইয়ে বাঘের ওই শাবকদের নামকরণ করেন বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপ-প্রধান বন সংরক্ষক তপন কুমার দে। সাফারি পার্কের আলাদা বেষ্টনীতে রাখা হয়েছে শাবকদের। পুরোপুরি সুস্থ থাকা এই শাবক তিন ভাইবোন এখন খেলছে, খুনসুটি করছে।

পার্কের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে ফ্যালকন ট্রেডার্সের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বেঙ্গল জাতের ছয়টি বাঘ কেনা হয়। পরে একই জাতের আরো তিনটি বাঘ কেনা হয়। পার্কে আনা বাঘগুলোর উচ্চতা সাড়ে তিন ফুট থেকে চার ফুট এবং দৈর্ঘ্য সাড়ে চার ফুট থেকে সাড়ে পাঁচ ফুট। বছরের নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাসই হলো এদের প্রজনন মৌসুম। তবে বছরের যেকোনো সময় প্রজনন হতে পারে।

সাধারণত চার থেকে সাড়ে চার বছর বয়সে এরা যৌবনপ্রাপ্ত হয়।

বাঘিনীদের গর্ভাবস্থাকাল ১০৩ থেকে ১০৫ দিন। একই সঙ্গে তারা দুই থেকে চারটি বাচ্চা প্রসব করে।

গত ২৬ জানুয়ারি গর্ভবতী বাঘিনীটি একটি মৃত বাচ্চাসহ পাঁচটি বাচ্চা প্রসব করে। জন্মের কিছুক্ষণ পরই একটি বাচ্চা মারা যায়।

পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক আনিসুর রহমান জানান, এর আগেও ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কে বাঘ বাচ্চা প্রসব করেছে। তবে সেই বাঘগুলো দেশি, সুন্দরবনের। তিনি দাবি করেন, দেশের বাইরে থেকে আনা কোনো বাঘিনীর সাফারি পার্কে বাচ্চা দেওয়া এটাই প্রথম।

বন্য প্রাণী পরিদর্শক সারোয়ার হোসেন খান জানান, প্রসবের দেড় মাস আগে বাঘিনীটিকে বাঘ বেষ্টনীর পাশে আলাদা বেষ্টনীতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। শাবকসহ এখনো ওই বেষ্টনীতেই রয়েছে বাঘিনীটি। প্রায় দুই বছর পর্যন্ত অন্য বাঘ-বাঘিনীদের কাছ থেকে দূরে রাখা হবে এই শাবকদের। তিনি আরো জানান, বাচ্চারা আট-নয় সপ্তাহ পর্যন্ত কেবল বাঘিনী মায়ের দুধ পান করে। এরপর থেকে মাংস খেতে দেওয়া হয়।

ওই বন্য প্রাণী পরিদর্শক আরো জানান, জন্মের দুই সপ্তাহ পর বাচ্চার চোখ ফোটে। আট-নয় সপ্তাহের মধ্যে স্থায়ী দাঁত গজায়। তিন বছর পর মায়ের সঙ্গ ছেড়ে আলাদা হয়ে একা চলতে শুরু করে শাবকরা।

সাফারি পার্কে বাঘের দেখভাল করেন কিপার মিন্টু মিয়া। তিনি বলেন, ‘পুরোপুরি সুস্থ থাকা তিন শাবকই খেলছে, ছোটাছুটি-খুনসুটি করছে। ’

সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) ও পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন জানান, জন্মের পর পর্যবেক্ষণে রাখার কারণে বিষয়টি কাউকে জানানো হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা থাকলে বাঘ সংরক্ষণে বড় ভূমিকা রাখা যাবে।


মন্তব্য