kalerkantho


উন্নয়নকাজে গতি আনার চেষ্টা

আবুল কাশেম   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



উন্নয়নকাজে গতি আনার চেষ্টা

চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই শেষ করতে চায় সরকার। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপির প্রতিশ্রুতি পূরণসহ আগামী অর্থবছর সারা দেশে জোরেশোরে প্রকল্প শুরু করে নির্বাচনের আগেই শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।

এ জন্য নতুন অর্থবছর থেকে বাজেটে আলাদা বরাদ্দ থাকবে। সেখান থেকে প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন, সমীক্ষা ও পূর্তকাজের জন্য পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারবে মন্ত্রণালয়গুলো। তবে প্রকল্প প্রস্তুতির অর্থে কোনো নিয়োগ দেওয়া বা যানবাহন কেনা যাবে না। জমি অধিগ্রহণের দরকার হলে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করা যাবে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়াই। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য ১০০ কোটি টাকা রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে গতি আনতে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে কাঠামো ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনতে ‘প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজের অর্থ বরাদ্দ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুমোদন করে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর গত মঙ্গলবার সেই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তাতে বলা হয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণ বাদে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নের প্রকল্পের প্রস্তুতিকাজ ছয় মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। আর ভূমি অধিগ্রহণসহ তা শেষ করতে হবে ৯ মাসের মধ্যে।

বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পের প্রস্তুতি কাজ শেষ করতে হবে ৯ মাসের মধ্যে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের পরই একটি প্রকল্পে অর্থ খরচ করা যায়। কিন্তু একনেক এ অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানোর আগেই প্রকল্পের ধারণাপত্র প্রণয়ন, প্রাথমিক ব্যয় বা বাজেট প্রাক্কলন, এডিপির অননুমোদিত তালিকায় অন্তর্ভুক্তি, বিভিন্ন ধরনের সমীক্ষা, প্রাথমিক নকশা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, অর্থনৈতিক ও আর্থিক বিশ্লেষণ, অধিগ্রহণযোগ্য ভূমি নির্বাচন, পণ্য ক্রয়ের আইটেমভিত্তিক চাহিদা প্রাক্কলন ও প্রশাসনিক অনুমোদন গ্রহণসহ নানা ক্ষেত্রে অর্থের প্রয়োজন হয়। মন্ত্রণালয়গুলো বিভিন্ন উৎস থেকে এ টাকা খরচ করতে গিয়ে সময় নষ্ট করে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি নেমে আসে, তাতে খরচও বাড়ে। এসব প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য আলাদা অর্থ বরাদ্দ রাখা হলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সাহায্যের বাজেট ও হিসাব (ফাবা) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফরিদা নাসরীনের স্বাক্ষরে জারি করা নীতিমালায় বলা হয়েছে, খসড়া প্রকল্প দলিল (ডিপিপি/টিপিপি) অনুমোদনের আগে প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার অনুকূলে উন্নয়ন ব্যয় খাতে অর্থ বরাদ্দ করা হবে। ওই অর্থ দিয়ে ডিপিপি অনুমোদনের আগে প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রস্তুতি টিমের অফিস পরিচালনা করা যাবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ, যানবাহন বা যন্ত্রপাতি কেনায় ওই টাকা ব্যয় করা যাবে না। ভূমি অধিগ্রহণের খরচ বাদে কোনো একক প্রকল্পের অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা খরচ করা যাবে। আর যে অর্থবছর প্রস্তুতিমূলক কাজের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা ওই অর্থবছরের মধ্যেই খরচ করতে হবে। ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত খরচ ৫০ কোটি টাকা বা তার বেশি হলে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত সম্মতি গ্রহণ করতে হবে।

 


মন্তব্য