kalerkantho


দুর্নীতির অভিযোগ

আদালতের রায়েও দ. কোরিয়ার নারী প্রেসিডেন্ট বরখাস্ত

বিক্ষোভে নিহত ২

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আদালতের রায়েও দ. কোরিয়ার নারী প্রেসিডেন্ট বরখাস্ত

প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হাই

দুর্নীতির দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হাইকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির সাংবিধানিক আদালত। প্রায় তিন মাস আগে পার্লামেন্টের সদস্যদের ভোটাভুটিতে প্রেসিডেন্ট পার্ককে অভিশংসনের (ইমপিচ) সিদ্ধান্ত হয়।

গতকাল শুক্রবার দেশটির সর্বোচ্চ

আদালতও পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের পক্ষে রায় দেন। আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছে।

সাংবিধানিক আদালত তাঁর রায়ে বলেছেন, পার্কের কর্মকাণ্ড গণতন্ত্রের চেতনা ও আইনের শাসনের গুরুতর ক্ষতি করেছে। তাই প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হাইকে বরখাস্ত করা হলো।

দক্ষিণ কোরিয়ায় সাবেক সেনাশাসক পার্ক চুং-হির মেয়ে পার্ক গিউন হাই দক্ষিণ কোরিয়ায় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান, যাঁকে অভিশংসিত হতে হলো। আদালতের এই রায়ের ফলে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারিত হলেন ৬৫ বছর বয়সী পার্ক।

সংবিধান অনুযায়ী আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন একজনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করতে হবে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের। অভিশংসিত হওয়ায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়মুক্তির সুযোগও হারাচ্ছেন পার্ক। তাঁকে এখন দুর্নীতির দায়ে বিচারের মুখোমুখি করা যাবে।

গতকাল আদালতের রায়ের পর রাজধানী সিউলের বিভিন্ন সড়কে উল্লাসে মেতে ওঠে পার্কের অপসারণের দাবিতে মাঠে থাকা আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে তাঁর সমর্থকরা আদালতের বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। পার্কের ছবি নিয়ে কাঁদতে দেখা যায় অনেককে। পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তিও হয়। বিক্ষোভের মধ্যে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের একজন মারা গেছে পুলিশ ভ্যান থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে।

সায়েনুরু পার্টির শীর্ষ নেতা পার্ক গিউন হাই ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার একাদশ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তিনিই প্রথম নারী, যিনি রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার সময় তুমুল জনপ্রিয়তা থাকলেও ২০১৪ সালে সিউলে ফেরিডুবির ঘটনায় ৩০৪ জনের মৃত্যুর পর তাঁর এবং দলের জনপ্রিয়তা কমাতে থাকে। সরকার ত্বরিত ব্যবস্থা না নেওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে বলে তখন বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছিল।

ব্যক্তিগত লাভের লক্ষ্যে এক পুরনো বন্ধুকে সুবিধা পাইয়ে দিতে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করেছেন এমন অভিযোগে গত বছরের মাঝামাঝি সংসদে ও রাজপথে পার্কের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি পদত্যাগ করতে চাইলেও বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব আনে। গত বছর ৯ ডিসেম্বর দেশটির পার্লামেন্টে ওই প্রস্তাব ২৩৪-৫৬ ভোটে অনুমোদন পায়। নিজ দলের পার্লামেন্ট সদস্যদের অনেকেই সেদিন তাঁর অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। পার্লামেন্টের অভিশংসনের পর পার্কের ক্ষমতা চলে যায় প্রধানমন্ত্রী কিও-আনের কাছে। গতকাল ৯ সদস্যের সাংবিধানিক আদালত অভিশংসনে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।


মন্তব্য