kalerkantho


বিজিএমইএ ভবন

ক্ষতিপূরণ নিয়ে শঙ্কায় ফ্লোর মালিকরা

এম সায়েম টিপু   

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ক্ষতিপূরণ নিয়ে শঙ্কায় ফ্লোর মালিকরা

বিজিএমইএ ভবন ভাঙার বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পর ওই ভবনে কোনো তলা (ফ্লোর) কিনে যাঁরা অফিস দিয়েছেন তাঁরা ক্ষতিপূরণ পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। এ বিষয়ে বিজিএমইএও গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানায়নি। তবে আগামী বোর্ডসভায় এ ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ভবনে থাকা অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে অন্য জায়গায় অফিস স্থানান্তরের বিষয়টি অনেকটা চূড়ান্ত করে ফেলেছে। কেউ কেউ কারওয়ান বাজার আবার কেউ কেউ মহাখালীতে তাদের প্রতিষ্ঠানের অফিস স্থানান্তরের কাজ প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে।

তবে ক্ষতিপূরণ কী হবে তা নিয়ে চিন্তিত ওই সব প্রতিষ্ঠান। যদিও সুপ্রিম কোর্ট এ ব্যাপারে বিজিএমইএকে নির্দেশ দিয়েছেন ফ্লোরের মালিকরা তাঁদের ক্ষতিপূরণ দাবি করার ১২ মাসের মধ্যে তা পরিশোধের করার জন্য।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ফ্লোর মালিক কালের কণ্ঠকে জানান, ক্ষতিপূরণ নিয়ে এখনই তাঁরা আদালতে যেতে চান না। কারণ এটা আরো জটিল এবং অনেক সময়সাপেক্ষ। আর এই সুযোগই বিজিএমইএ নিতে চায় কি না তা নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত।

ওই ভবনের ফ্লোরের মালিক দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেডের (ডিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ রহিম ফিরোজ কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁদের ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে বিজিএমইএ থেকে এখনো কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

বিজিএমইএ ভবনে প্রায় ৬০ হাজার বর্গফুট ফ্লোর আছে ডিবিএল গ্রুপের। এতে প্রায় ৪০০ কর্মী কাজ করে। ইচ্ছা করলেও অন্য কোনো স্থানে হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করা সম্ভব নয় বলে জানান এম এ রহিম ফিরোজ।  

১৬তলা বিজিএমইএ ভবনে মোট দুই লাখ ৬৬ হাজার বর্গফুট। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার বর্গফুট ৪০টির মতো কম্পানির কাছে ফ্লোর হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, এক্সিম ব্যাংক লিমিটেডসহ অনেক প্রতিষ্ঠানেরই ফ্লোর কেনা রয়েছে। এতে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানসহ অন্য নেতাদেরও ফ্লোর কেনা আছে।

ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিজিএমইএ ভবন ভাঙার জন্য আদালতের নির্দেশনার পর আমরা মোটামুটি মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি আমাদের অফিস স্থানান্তরর ব্যাপারে। ইতিমধ্যে আমরা রাজধানীর মহাখালীতে নতুন অফিসের জন্য জায়গাও নিয়েছি। আশা করছি, দু-তিন মাসের মধ্যে আমরা নতুন জায়গায় অফিস স্থানান্তর করতে পারব। ’

ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে জানতে চাইলে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিজিএমইএ ভবনে আমাদের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বর্গফুটের ফ্লোর কেনা আছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় পাওয়ার পর আমরা অন্য অংশীদারদের নিয়ে করণীয় ঠিক করব। ’

এদিকে এক্সিম ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া বলেন, বিজিএমইএ ভবনে তাঁদের প্রায় ১০ হাজার বর্গফুটের কার্যালয় আছে। আদালতের রায়ের পরপরই তাঁরা তা স্থানান্তরের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গ্রাহকের কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যে কারওয়ান বাজারে অফিসের জন্য জায়গা নেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া বলেন, ‘আমরা বিজিএমইএকে ক্ষতিপূরণ দাবি করে চিঠি দিয়েছি। তারা আমাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জানিয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে তারা বিজিএমইএর নতুন ভবনে জায়গা দেবে। অথবা অন্য ফ্লোর মালিকদের সঙ্গে বসে কিভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায় এ ব্যাপারে করণীয় ঠিক করবে। ’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু কালের কণ্ঠকে বলেন, বিজিএমইএ ভবনে থাকা অন্য ফ্লোর মালিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে এখনো তেমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কিভাবে অন্য মালিকদের ফ্লোরের মূল্য পরিশোধ করা যায় অথবা বিজিএমইএর নতুন ভবনে তাঁদের ফ্লোর দেওয়া যায় এ ব্যাাপারে আগামী বোর্ডসভায় আলোচনা করা হবে।


মন্তব্য