kalerkantho


বাস-ট্রাকচাপায় শিশুসহ নিহত ৬ দুই বাসে আগুন

সিলেট অফিস ও ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বাস-ট্রাকচাপায় শিশুসহ নিহত ৬ দুই বাসে আগুন

সিলেটের বিয়ানীবাজার, ময়মনসিংহের ভালুকা ও ত্রিশালে বাস ও ট্রাকের চাপায় এক শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো অন্তত পাঁচজন। গতকাল শুক্রবার এ তিনটি স্থানে দুর্ঘটনা ঘটে।

বিয়ানীবাজারে ট্রাকচাপায় নিহত হয়েছে অটোরিকশার চার যাত্রী। আহত হয়েছে দুজন। ভালুকায় বাসচাপায় শিশু নিহত হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন দুটি বাসে আগুন দিয়েছে। ত্রিশালে বাসচাপায় নিহত হয়েছে একজন, আহত হয়েছে আরো তিনজন।

সিলেট : গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকায় নিহত চারজন হলো জকিগঞ্জ উপজেলার গঙ্গারজল এলাকার অটোরিকশাচালক আব্দুল আহাদ, কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী গ্রামের শিব্বির আহমদ ও দুলাল আহমদ, বিয়ানীবাজার উপজেলার কাকুরা গ্রামের গোলজার আহমদ।

গুরুতর আহত অন্য দুই যাত্রীকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সিলেট থেকে বিয়ানীবাজারগামী একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়।

ঘটনাস্থলেই অটোরিকশাচালকসহ তিন যাত্রী মারা যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় আরো একজন।

দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাক ফেলে চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে গোলাপগঞ্জ উপজেলার রানাপিং বাজার এলাকায় তাকে আটক করে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করলে সিলেট-বিয়ানীবাজার-জকিগঞ্জ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিয়ানীবাজার থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হওয়ার বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চারজনের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) : ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাসচাপায় নিহত হয়েছে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিমু আক্তার (৮)। সে হবিরবাড়ির লবণকোঠা গ্রামের মোশারফ হোসেনের মেয়ে এবং স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী।  

দুর্ঘটনার পর মহাসড়ক অবরোধ করে ‘এনা’ ও ‘আলম এশিয়া’ পরিবহনের দুটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় স্থানীয় লোকজন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আমতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী শিমু রাস্তা পার হচ্ছিল। ওই সময় ময়মনসিংহগামী একটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। দুর্ঘটনার পর আমতলীতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ময়মনসিংহগামী ‘এনা’ পরিবহনের একটি বাসে এবং সিডস্টোর বাজারের কাছাকাছি এলাকায় ‘আলম এশিয়া’ পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মহাসড়কে আবার যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অন্যদিকে ত্রিশালের বগারবাজার এলাকায় গতকাল দুপুরে বাসচাপায় অচেনা এক যুবক (৩৫) নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো তিনজন। আহতদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। বাসটি আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, শ্যামলী বাংলা পরিবহনের একটি বাস ময়মনসিংহগামী ‘এনা’ পরিবহনের একটি বাসকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় পথচারীদের চাপা দেয়। এতেই হতাহতের ঘটনা ঘটে।


মন্তব্য