kalerkantho


রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন

ধর্মান্ধতা প্রতিরোধের ডাক

নওশাদ জামিল   

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ধর্মান্ধতা প্রতিরোধের ডাক

কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে গতকাল জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

গানে গানে, সুরে সুরে সংস্কৃতির লড়াইকে বেগবান করার প্রত্যয়ে শুরু হলো তিন দিনের জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন। জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের এ আয়োজনে যোগ দিয়েছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পাঁচ শতাধিক শিল্পী। তাঁদের প্রাণোচ্ছল উপস্থিতি আর দৃঢ়প্রত্যয়ে গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে মুখর হয়ে ওঠে রাজধানীর কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণ।

আয়োজকরা জানান, গানে গানে সারা দেশে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয়ে নিয়মিতভাবে আয়োজন হয় এই সম্মেলনের। সংস্কৃতির শুভ্রতা দিয়ে ধর্মান্ধতা ও মানবিক অবক্ষয় রোধই এর লক্ষ্য। এটি পরিষদের ৩৬তম বার্ষিক আয়োজন। চলবে আগামীকাল রবিবার পর্যন্ত।

গতকাল সকালে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলন পরিষদের সভাপতি ও রবীন্দ্র গবেষক ড. সন্্জীদা খাতুন। উদ্বোধন করেন বরেণ্য শিল্পী রফিকুন নবী। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে স্বাগত ভাষণে অংশ নেন লাইসা আহমেদ লিসা। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার শুরুতেই সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশন করা হয় ‘সর্ব খর্বতারে দহে তব ক্রোধদাহ’।

এরপর ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের সঙ্গে প্রদীপ প্রজ্বালন করে অতিথিরা সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

উগ্র মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার উত্থানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সংস্কৃতিচর্চা আরো বেগবান করার আহ্বান জানান বাংলাদেশের রবীন্দ্রচর্চার অন্যতম পুরোধা সন্জীদা খাতুন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ধর্মের নামে ক্ষমতা দখলদারদের হাত থেকে আমাদের সংস্কৃতিকে যে করেই হোক বাঁচাতে হবে। পরিপূর্ণ বাঙালি হওয়ার প্রত্যয়ে রবীন্দ্রচর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রাণের ভেতর দিয়ে মানুষ বেঁচে থাকে। সেই উৎসাহেই আমরা সব প্রতিকূলতা এড়িয়ে এ সম্মেলনকে এগিয়ে নিয়ে যাব। রবীন্দ্রনাথই আমাদের নিরন্তর প্রেরণার উৎস। ’

উদ্বোধক রফিকুন নবী বলেন, ‘আমাদের চলার পথে রবীন্দ্রনাথ ছাড়া উপায় নেই। ষাটের দশক থেকে তাঁকে আঁকড়ে ধরেই এ পর্যন্ত আসা। রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করেই সংগীত, চিত্রকলা ও জীবনের প্রতিটি পর্বে সবখানে এগিয়ে চলেছি আমি। ’

উদ্বোধন শেষে ছিল সংগীত পরিবেশনা। এতে সম্মিলন পরিষদের শিল্পীরা সম্মেলক কণ্ঠে গেয়ে শোনান ‘এবার তোর মরা গাঙে’, ‘চলো যাই চলো’, ‘সংকোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান’, ‘ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা’ ও ‘আনন্দধ্বনি জাগাও গগনে’। প্রতিটি গানের সঙ্গেই ছিল সম্মেলক নৃত্য। সকালের পর্বে একক কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন মাকসুরা আক্তার, সুশান্ত রায়, অভয়া দত্ত, সুদীপ সরকার ও রিমা সাহা।

দুপুরে দলীয় পরিবেশনায় ছিল রবিরশ্মি। গান পরিবেশন করেন সিলেট থেকে আগত সম্মিলনের সদস্যরা। আবৃত্তি করেন জহিরুল হক। নৃত্য পরিবেশন করে ধৃতি নর্তনালয় ও নৃত্যম নৃত্যশীলন কেন্দ্র। সন্ধ্যার পর্বে প্রদীপ প্রজ্বালনের পরে সংগীত পরিবেশন করেন মোহাম্মদ সিফায়েতউল্লাহ, মহাদেব ঘোষ, ফাহমিদা খাতুন, বিশ্বজিৎ সেন, কৃষ্টি হেফাজ, সুপ্রিয়া দাশ, তন্বী দত্ত, নাঈমা নাজ প্রমুখ।

সম্মেলন উপলক্ষে সারা দেশ থেকে আসা রবীন্দ্রসংগীত শিল্পীদের নিয়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় কিশোর বিভাগের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। আজ শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত হবে সাধারণ বিভাগের প্রতিযোগিতা। আগামীকাল রবিবার সমাপনী আসরে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।

আজ শনিবার বিকেল ৪টায় রয়েছে প্রতিনিধি সম্মেলন। বিকেল ৫টায় সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘সভ্যতার সংকট ও রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক সেমিনার। সন্জীদা খাতুনের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ভুঁইয়া ইকবাল।

আগামীকাল রবিবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর অনুষ্ঠিত হবে প্রতিনিধি সম্মেলন। সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি থাকবেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। সেদিন প্রদান করা হবে রবীন্দ্র পদক ও গুণীজন সম্মাননা। এ বছর সম্মাননা পাচ্ছেন তবলাশিল্পী মদন গোপাল দাস ও পটশিল্পী শম্ভু আচার্য।

 


মন্তব্য