kalerkantho


সিটিটিসির জিজ্ঞাসাবাদে অমি

জঙ্গিদের নতুন ঘাঁটি সায়েদাবাদে?

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জঙ্গিদের নতুন ঘাঁটি সায়েদাবাদে?

কুমিল্লায় পুলিশের ওপর হামলাকারী জঙ্গি আহমেদ আজওয়াদ ইমতিয়াজ তালুকদার ওরফে অমি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তারা হাতে তৈরি বোমা বা গ্রেনেডগুলো ঢাকার সায়েদাবাদের একজনের কাছে হস্তান্তর করতে যাচ্ছিল। সেখানে নব্য জেএমবির একটি আস্তানা আছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অমি এ তথ্য দিয়েছে। গুলিবিদ্ধ অমি বর্তমানে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গত মঙ্গলবার কুমিল্লায় তল্লাশির সময় বাস থেকে নেমে পুলিশের ওপর হামলা চালায় অমি ও মাহমুদ হাসান নামের দুই জঙ্গি। পরে পুলিশ ও জনতা তাদের আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের একটি আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়।

সিটিটিসি সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে অমি জানায়, ঢাকায় কয়েকটি ভাড়া বাসা রয়েছে নব্য জেএমবির সদস্যদের। বাইরে থেকে ঢাকায় এলে ওই সব বাসায় অবস্থান করে জঙ্গিরা। তবে অমি সেদিন কার কাছে বোমাগুলো নিয়ে যাচ্ছিল সে তথ্য দিলেও গোয়েন্দারা তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করতে চাননি। আবার অমি যেসব তথ্য দিচ্ছে তার সত্যতা যাচাই করছে সিটিটিসি।

অমি সিটিটিসিকে বলেছে, নব্য জেএমবির সাবেক সমন্বয়ক তামিম চৌধুরীর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তার। তামিম নিহত হওয়ার আগে নারায়ণগঞ্জের জঙ্গি আস্তানায় সাত দিন ছিল সে। গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গির সঙ্গেও পরিচয় ছিল তার। তা ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামে নব্য জেএমবির যেসব জঙ্গি ঘাঁটি শনাক্ত হয়েছিল আবার যেগুলো এখনো শনাক্ত হয়নি সব জায়গাতেই তার যাতায়াত ছিল।

সিটিটিসির উপকমিশনার (ডিসি) মহিবুল ইসলাম বলেন, অনেক তরুণ শিক্ষার্থী জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সময় যারা নিখোঁজ হয়েছে তাদের খোঁজ চলছে।

গোয়েন্দা সূত্র মতে, গত বছর ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে অভিযানের সাত দিন আগেও তামিম চৌধুরীর সঙ্গে ছিল অমি। তামিম তাকে অন্য একটি কাজে পাঠালে ওই অভিযানে বেঁচে যায় সে। এ ছাড়া অমি গুলশান হামলার আগে রাজধানীর বেশ কয়েকটি জঙ্গি ঘাঁটিতেও অবস্থান করে। গুলশানে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গির সঙ্গে তার সাক্ষাৎও হয়েছে।

সব শেষ আশকোনায় জঙ্গি মুসার আস্তানায়ও অমির যাওয়া-আসা ছিল। অমির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ঢাকার আজিমপুর, মিরপুর ও উত্তরায় অবস্থানকারী নব্য জেএমবির সদস্যদের। তামিমের মৃত্যুর পর নব্য জেএমবির বর্তমান নেতা মাইনুল ইসলাম মুসা।

অমি জিজ্ঞাসাবাদে সিটিটিসিকে আরো বলেছে, মাইনুল ইসলাম মুসা ও হাদিসুর রহমান সাগর নামে দুজন তাদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিত। এর মধ্যে সাগর ইতিমধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত মারজানের বোনজামাই।

অমির তথ্যানুযায়ী সিটিটিসি সূত্র জানায়, নব্য জেএমবির মাঠ পর্যায়ে এখনো অনেক সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৫ জনের সঙ্গে মুসার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তারা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।

অমি আরো জানিয়েছে, মিরসরাইয়ের বাসাটি ছিল নব্য জেএমবির ট্রেনিং সেন্টার। বাড়িওয়ালা যেন তাদের ব্যাচেলর সন্দেহ না করে সে জন্য এক দম্পতিকে পাঁচ হাজার টাকায় তারা বাসাটি ভাড়া দিয়েছিল। দুটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় তারা। এর মধ্যে একটি ফ্ল্যাট জঙ্গি ট্রেনিং ও গ্রেনেড তৈরির কারাখানা হিসেবে তারা ব্যবহার করত। ওই বাসায় নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতাসহ আরো অনেক সদস্য আসত। তাদের অনেকেই আসত গ্রেনেড তৈরি করতে।

অমি জিজ্ঞাসাবাদে আরো বলেছে, পারিবারিক অশান্তির কারণে বাবা-মায়ের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। বিশেষ করে তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের কারণে সে মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে থাকত। একপর্যায়ে ইন্টারনেটে সন্ত্রাসবাদীদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে নিজের মধ্যেও এ ধরনের জিহাদি প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের মাধ্যমে তামিমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর তামিমই তাকে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হতে বলে। এ ছাড়া টুইটারের মাধ্যমে নব্য জেএমবির আরেক নেতা আবু ইব্রাহিম আল হানিফের সঙ্গেও তার পরিচয় হয়। এরপর গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি সে বাসা ছেড়ে যায়।

এদিকে র‍্যাব-পুলিশের তালিকা অনুযায়ী এখনো অনেক কিশোর, তরুণ পরিবার থেকে নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সম্পর্কে তথ্য পেতে তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে গোয়েন্দাদের। তবে যেসব অভিভাবক সন্তানদের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে তথ্য দিতে কার্পণ্য করছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।


মন্তব্য