kalerkantho


বিজিএমইএর সময় চেয়ে আবেদন রবিবার শুনানি

ভবন ভাঙা শুরু করতে লিগ্যাল নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিজিএমইএর সময় চেয়ে আবেদন রবিবার শুনানি

রাজধানীর কারওয়ান বাজার সংলগ্ন বেগুনবাড়ী-হাতিরঝিল প্রকল্পের বেগুনবাড়ী খালের ওপর নির্মিত বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে আদালতের কাছে তিন বছর সময় চেয়ে করা আবেদনের ওপর গতকাল আদেশ হয়নি। আগামী ১২ মার্চ রবিবার শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ গতকাল বৃহস্পতিবার এ দিন ধার্য করেন। গতকাল আদালতে বিজিএমইএর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী ও ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। রাজউকের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এদিকে ভবন ভাঙার কাজ সাত দিনের মধ্যে শুরু করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রতি গতকাল লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) সভাপতি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। নোটিশে বলা হয়, ভবন ভাঙার কাজ শুরু না করলে রাজউক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে। বিজিএমইএ ভবন মামলায় তিনি অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আদালতের শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন।

এর আগে ভবন ভাঙার রায়ের বিরুদ্ধে বিজিএমইএর করা রিভিউ আবেদন গত ৫ মার্চ খারিজ করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। রিভিউ আবেদন খারিজের পর সেদিনই ভবন ভাঙতে সময় চেয়ে মৌখিকভাবে আবেদন জানিয়েছিলেন বিজিএমইএর আইনজীবী। এর প্রেক্ষাপটে আদালত লিখিতভাবে আবেদন দাখিল করতে বলেছিলেন।

একই সঙ্গে ৯ মার্চ আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। এ অবস্থায় ৮ মার্চ তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন এফিডেভিট করলেও তা সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেননি বিজিএমইএর আইনজীবী। ফলে আদালত বিজিএমইএর আবেদন পাননি।

এ অবস্থায় গতকাল সকালে আদালতে শুনানির শুরুতেই অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, আদালতের রায়ে ৯০ দিনের মধ্যে ভবন ভাঙার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু রাজউক এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৯০ দিনের সময়সীমা শেষ হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি। এ সময় আদালত বলেন, না ভাঙলে আপনি পদক্ষেপ নিতে পারেন।

এরপর বিজিএমইএর পক্ষে অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী আদালতকে বলেন, ‘আমরা বিজিএমইএ অফিস সরাতে তিন বছর সময় চাচ্ছি। ’

এ সময় আদালত বলেন, ‘আবেদন কোথায়?’

এ সময় আইনজীবী তাঁর হাতে থাকা একটি কপি প্রধান বিচারপতির কাছে জমা দিয়ে বলেন, ‘আবেদন এফিডেভিট করে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদন সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করা হয়েছে। ’

এরপর আদালত বলেন, রবিবার তা কার্যতালিকায় থাকবে।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ভবন নির্মাণ করা নিয়ে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডি এইচ এম মনির উদ্দিন আদালতে উপস্থাপন করেন। পরদিন হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) রুল জারি করেন। এ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে ওই ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যান্সারের মতো’ উল্লেখ করে তা রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে রাজউককে নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আপিল করার অনুমতি চেয়ে (লিভ টু আপিল) আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। এ আবেদন গত বছরের ২ জুন খারিজ করেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় গত বছরের ৮ নভেম্বর প্রকাশিত হয়। এ রায়ের কপি পাওয়ার পর গত বছরের ৮ ডিসেম্বর বিজিএমইএ রিভিউ আবেদন দাখিল করে। ৫ মার্চ এ রিভিউ আবেদন খারিজ করেন আপিল বিভাগ। এরপর সময় চেয়ে আবেদন করল বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে রাজউক চেয়ারম্যানকে নোটিশ বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে সাত দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যানকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন এক আইনজীবী। আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর এই নোটিশ দেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

আইনি নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির আপিল খারিজ করে দেওয়া রায় পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ তাদের ভবন ভেঙে ফেলবে। তা না হলে ভবন ভেঙে ফেলার পদক্ষেপ নিতে রাজউককে নির্দেশ দেওয়া হয়। রায় পাওয়ার ৯০ দিনের সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। কিন্তু ভবন ভেঙে ফেলার ব্যাপারে রাজউক চেয়ারম্যান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এটি আদালতের রায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা ও রায় অমান্য করার শামিল। এটি আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে সাত দিনের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই আইনজীবীকে অবহিত করতে রাজউক চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। তা না হলে রাজউক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে।

 


মন্তব্য