kalerkantho


ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধেও মামলা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধেও মামলা

ছয় মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন, সেটির বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। মামলাটি করা হয়েছে হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের তরফ থেকে। আগামী ১৫ মার্চ এ নিয়ে শুনানি হবে। হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের যুক্তি, এই নির্বাহী আদেশের ফলে হাওয়াইয়ের মুসলিম জনগোষ্ঠী, পর্যটক ও বিদেশি শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এর আগের নির্বাহী আদেশে (২৭ জানুয়ারি) সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ট্রাম্প। দেশগুলো ছিল ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া, ইরাক, সুদান ও ইয়েমেন। কিন্তু ফেডারেল আদালতের নির্দেশে ওই নির্বাহী আদেশ আটকে যায়। এ অবস্থায় আগের নির্বাহী আদেশ ‘সংস্কার’ করে গত সোমবার দ্বিতীয় দফায় নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। এবারের আদেশে ইরাকের নাম বাদ দিয়ে আগের তালিকার বাকি ছয় মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। আগামী ১৬ মার্চ থেকে এই আদেশ কার্যকর হওয়ার কথা। এটি কার্যকর হওয়ার মানে হলো, ওই ছয় দেশের নাগরিক তিন মাস (৯০ দিন) যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না।

আর শরণার্থীদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে ১২০ দিন।

নতুন নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, ‘এই নির্বাহী আদেশের ফলে হাওয়াইয়ের মুসলিম জনগোষ্ঠী, পর্যটক ও বিদেশি শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ’ হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ডগ চিন বলেন, ‘আগের আর এবারের নির্বাহী আদেশের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। একই সারবস্তু। আগেরবারের মতো এবারও মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নিশানা করে আদেশ দেওয়া হয়েছে। শরণার্থীদের বিষয়েও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ’ আগামী ১৫ মার্চ এই মামলার শুনানি হবে বলেও জানান তিনি।

ডগ চিন জানান, হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের ২০ শতাংশ বাসিন্দা বিদেশে জন্ম নেওয়া। সেখানে প্রবাসী আছে এক লাখের মতো। আর মোট কর্মীর ২০ শতাংশই বিদেশি নাগরিক।

ট্রাম্পের প্রথম নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য মামলা করে। এর মধ্যে হাওয়াইও ছিল। তবে এবারের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে তারাই প্রথম মামলা দায়ের করল।

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের আগের নির্বাহী আদেশ আটকে দিয়ে ফেডারেল আদালত জানান, মুসলিম দেশের নাগরিকদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ অসাংবিধানিক। কারণ এই নির্বাহী আদেশের ফলে সবার মধ্যে ধারণা জন্মেছে যে এতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মুসলমানদের নিশানা বানানো হয়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন সেই অভিযোগ স্বীকার করেনি। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য