kalerkantho


টিআইবির প্রতিবেদন

বিদেশ যেতে ৯০% পুরুষ কর্মীই দুর্নীতির শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিদেশ যেতে ৯০% পুরুষ কর্মীই দুর্নীতির শিকার

শ্রম বিক্রির জন্য দেশের বাইরে যেতে শতকরা ৯০ জনেরও বেশি পুরুষ কর্মীকে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নানাভাবে দুর্নীতির শিকার হতে হয়। বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া প্রায় পুরোটাই দালালনির্ভর হওয়ায় এই দুর্নীতি সংঘটিত হচ্ছে।

একই কারণে এই খাত থেকে প্রতিবছর বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

‘শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন : সমস্যা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের সিনিয়র প্রগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম ও প্রগ্রাম ম্যানেজার মনজুর-ই-খোদা। প্রতিবেদনে শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়ার পাঁচটি ধাপে ১৬ ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে শ্রম অভিবাসন খাতের সুশাসন নিশ্চিতকরণে ৯ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে বিদ্যমান আইনের সংস্কার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বৈধ শ্রম অভিবাসনের বিভিন্ন বিষয় সংবলিত তথ্যের প্রচার অন্যতম।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপনির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান।

ড. ইফতেখারুজ্জামান অতিরিক্ত দালালনির্ভরতা, সক্ষমতার ঘাটতি, চাহিদার তুলনায় অধিক গমনেচ্ছু এবং প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে শ্রম অভিবাসনে ইচ্ছুক ও প্রবাসী শ্রমিকরা আর্থিকসহ বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই শ্রমশক্তি রপ্তানি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে দালাল ও এজেন্টদের মাধ্যমে বিদেশে গমনেচ্ছুদের প্রতারণার শিকার ও নিঃস্ব হওয়ার বিষয়ের ওপর নজর দেওয়াসহ একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কৌশলপত্র প্রণয়ন, দালালনির্ভরতা নিয়ন্ত্রণ, প্রতারণা ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

গবেষণা প্রতিবেদনে শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়ার ভিসা সংগ্রহ, ভিসা সত্যায়ন, কর্মীর কাছে ভিসা বিক্রি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা প্রক্রিয়াকরণসহ সব পর্যায়ে নানামুখী সমস্যা, দুর্নীতি ও অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গন্তব্য দেশে নিয়োগদাতাদের পক্ষ থেকে ও তাদের অজ্ঞাতসারে অবৈধভাবে ভিসা বিক্রি, অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কর্মীর চাহিদাপত্র তৈরি, গন্তব্য দেশ থেকে ভিসা কেনার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে পাচার, গন্তব্য দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে চাহিদাপত্র অনুযায়ী নিয়োগদাতা সম্পর্কে তথ্য যাচাই না করে ও অবৈধভাবে অর্থের বিনিময়ে চাহিদাপত্র সত্যায়নের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে এ ছাড়া অভিবাসী কর্মীর কাছে দালালদের ভিসা বিক্রি, ভিসার জন্য অতিরিক্ত মূল্য আদায়, নারী অভিবাসী কর্মীদের কাছ থেকে রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালদের গড়ে ১০-১৫ হাজার টাকা আদায়, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুস্থ ব্যক্তিকে অযোগ্য ঘোষণা করে পরে টাকার বিনিময়ে যোগ্য বলে সনদ দেওয়া, পুলিশি ছাড়পত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শ্রম অভিবাসন খাতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগেরও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সেবার বিকেন্দ্রীকরণে ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে সরাসরি বহির্গমন ছাড়পত্র ও স্মার্ট কার্ড প্রদান, অনলাইন ভিসা চেকিংয়ের ব্যবস্থা, অভিবাসনের ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ প্রদান অন্যতম।


মন্তব্য