kalerkantho


আবার মা হলো প্রিন্সেস

এম বদি-উজ-জামান   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আবার মা হলো প্রিন্সেস

আদালতের আদেশে ভেঙে গেল ঘর। শুরু হলো একাকিত্বের জীবন। প্রিন্সকে হারানোর বেদনায় কাতর প্রিন্সেস। দিন-মাস কাটে বিষণ্নতায়। অবশেষে জীবনে আসে আলেকজান্ডার। কিন্তু নতুন সঙ্গীর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেকটাই দুরূহ হয়ে দাঁড়ায়। যা হোক, একপর্যায়ে এই যুগলের সংসারে আসে নতুন অতিথি—একসঙ্গে সাত-সাতটি সন্তান। এরপর আবার বিরতি। দুই বছর পর সম্প্রতি প্রিন্সেসের সংসারে এসেছে আরেক নতুন অতিথি।

এসব কথা কোনো মানুষকে কেন্দ্র করে নয়। বাংলাদেশের আদালতের আদেশে সংসার ভাঙার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও সংবাদ হওয়া সেই ব্লু-গোল্ড ম্যাকাও পাখি প্রিন্সেসকে নিয়েই এত কথা।

এই প্রিন্সেস কয়েক দিন আগে আবারও বাচ্চা ফুটিয়েছে। আর এতেই খুশি তার মালিক পাখি বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল ওয়াদুদ।

প্রিন্সের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর প্রিন্সেসের জন্য ২০১৩ সালের শেষ দিকে নতুন সঙ্গী আলেকজান্ডারকে বিদেশ থেকে আনেন ড. ওয়াদুদ। এর প্রায় এক বছর পর ২০১৪ সালের আগস্টে ওই ম্যাকাওয়ের সংসারে প্রথম একটি ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়ে আসে। এরপর আবার কিছুদিন বিরতি। প্রায় আট মাস পর ২০১৫ সালের মে মাসে রাজধানী ঢাকার হাতিরপুলে পাখি বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল ওয়াদুদের ব্যক্তিগত মিনি চিড়িয়াখানায় একে একে সাতটি বাচ্চা ফোটে। একবারে একটি বিশেষ ধরনের বাসায় ব্লু ম্যাকাওয়ের সাত ছানার মা হওয়ার এ ঘটনা বিশ্বে বিরল। আবার দীর্ঘ বিরতি। প্রায় দুই বছর পর এ সপ্তাহে নতুন অতিথি এসেছে প্রিন্সেসের সংসারে।

ড. ওয়াদুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রিন্সকে হারানোর পর জীবনসঙ্গী হিসেবে আলেকজান্ডারকে এখনো পুরোপুরি মেনে নিতে সমস্যা হচ্ছে প্রিন্সেসের। সাধারণত এক জোড়া ম্যাকাও বছরে কমপক্ষে তিনবার ডিম দেয়। প্রতিবারই একাধিক ডিম পাড়ে। প্রিন্সের সঙ্গে জুটি থাকা অবস্থায়ও প্রিন্সেস নিয়মিত ডিম দিত এবং বাচ্চা ফুটত। ২০১৫ সালের মে মাসে সাতটি বাচ্চা ফোটার পর ধারণা করা হয়েছিল এই জুটি পরস্পরকে বেশ মানিয়ে নিয়েছে। তবে বাস্তবে তা হয়নি। তিনি বলেন, ‘এক দিন লক্ষ করি প্রিন্সেস বিষণ্ন। একপর্যায়ে পাখিটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। হংকংয়ের চিকিৎসক লি চ্যাংয়ের পরামর্শে ওর খাবারে পরিবর্তন আনা হয়। মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার ডিম ফুটে বাচ্চা এসেছে প্রিন্সেসের সংসারে। ’

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে রাজধানীর ইস্কাটন রোডের বাসিন্দা মো. সেলিম তাঁর ছেলের জন্য সিঙ্গাপুর থেকে আনা পুরুষ ম্যাকাও পাখি ‘প্রিন্স’কে নিয়ে হাজির হন ২২/২ হাতিরপুলে ড. আবদুল ওয়াদুদের ফিকামলি সেন্টারের মিনি চিড়িয়াখানায়। প্রিন্সকে দেওয়া হয় ড. আবদুল ওয়াদুদের মিনি চিড়িয়াখানায় লালন-পালনের জন্য। ড. ওয়াদুদ প্রিন্সের একাকিত্ব কাটাতে জোড়া বাঁধার ব্যবস্থা করেন। সঙ্গিনীর নাম রাখা হয় প্রিন্সেস। সেই থেকে তারা ড. ওয়াদুদের কাছেই ছিল। সেখানে ২০১১ সালে প্রিন্সেস প্রথম ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চাও হয়।

আমাজন এলাকার পাইন বনে যাদের বাস, সেই পাখিকে বাংলাদেশে ড্রামের মধ্যে রেখে বাচ্চা ফোটানোর ঘটনা সবাইকে চমকে দেয়। এ খবর গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় সাড়া ফেলে দেয়। বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এর পরই ঘটে ছন্দপতন। ঢাকার এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে ২০১৩ সালের ৩ জানুয়ারি প্রিন্স ও প্রিন্সেসের সংসার ভেঙে যায়। প্রিন্সকে নিয়ে যাওয়া হয় বারিধারা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মো. সেলিমের বাসায়। আর প্রিন্সেস থেকে যায় ড. ওয়াদুদের কাছে হাতিরপুলে। এরপর এই জুটি টেকাতে নানা উদ্যোগ নিলেও তা ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে ড. ওয়াদুদ বিভিন্ন দেশ থেকে পুরুষ ম্যাকাও পাখি এনে প্রিন্সেসের সঙ্গে জোড়া বাঁধার চেষ্টা করেন। তিনি সিঙ্গাপুর, বলিভিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও থাইল্যান্ড থেকে পুরুষ ম্যাকাও নিয়ে আসেন। কিন্তু কোনোটির সঙ্গেই জোড়া বাঁধেনি প্রিন্সেস। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা থেকে আনা পুরুষ ম্যাকাও পাখিটি প্রিন্সেসের মন জয় করে। সেটির নাম রাখা হয় আলেকজান্ডার। সেই আলেকজান্ডারের সঙ্গেই এখন প্রিন্সেসের সংসার।


মন্তব্য