kalerkantho


ইডাব্লিউজির জরিপ

যোগ্য ৩.৩১% ব্যক্তি ভোটার তালিকায় নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



যোগ্য ৩.৩১% ব্যক্তি ভোটার তালিকায় নেই

দেশে ভোটার হওয়ার যোগ্য ৩.৩১ শতাংশ ব্যক্তি ভোটার তালিকায় স্থান পাননি বলে জানিয়েছে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর সংগঠন ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডাব্লিউজি)। এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে ইডাব্লিউজি এ তথ্য জানায়।

একই সঙ্গে ইডাব্লিউজি জানিয়েছে, পুরো ভোটার তালিকায় লিপিবদ্ধ তথ্যের ৯০ শতাংশ সঠিক, বাকি ১০ শতাংশে ভুলভ্রান্তি রয়েছে। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা আরো স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনকে একটি বিশেষ হালনাগাদ কর্মসূচি নেওয়াসহ ১১ দফা সুপারিশ করেছে ইডাব্লিউজি। জরিপ থেকে উঠে আসা এসব তথ্য নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইডাব্লিউজির পরিচালক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমাদের অডিট পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নাগরিকদের মধ্যে ভোটার হওয়ার উপযুক্ত ৯৬.৬৯ শতাংশের নাম ভোটার তালিকায় আছে। ৩.৩১ শতাংশের নাম নেই, যদিও তাদের যোগ্যতা রয়েছে। ’ তিনি বলেন, দেশের ভোটার তালিকায় অনেক ভুল তথ্য ও অসংগতি আছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিদ্যমান ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

ভোটার তালিকায় যেসব ক্ষেত্রে ভুল রয়েছে—নামের বানানের ক্ষেত্রে ৩.৪ শতাংশ, বাবা বা স্বামীর নামের বানানের ক্ষেত্রে ৭.৯ শতাংশ, মায়ের নামের বানানের ক্ষেত্রে ৭.১ শতাংশ, জন্ম তারিখের ক্ষেত্রে ৩.৭ শতাংশ, পেশার ক্ষেত্রে ৫.৮ শতাংশ এবং ঠিকানার ক্ষেত্রে ৫.৪ শতাংশ।

ইডাব্লিউজি জানায়, অনিবন্ধনের সর্বোচ্চ হার চট্টগ্রামে।

সেখানে ৩৯.৫ শতাংশ ব্যক্তি ভোটার হতে পারেননি। এরপর খুলনায় ১৫.৭ শতাংশ। সবচেয়ে কম অনিবন্ধিত বরিশাল বিভাগে, মাত্র ৩.৮ শতাংশ।

আর নারীদের তুলনায় পুরুষ ভোটার এবং শহরের চেয়ে গ্রামের ভোটারদের তথ্যে ভুলের পরিমাণ বেশি বলেও ইডাব্লিউজির জরিপে উঠে এসেছে। দেখা গেছে, তালিকায় থাকা ৪৩.৫ শতাংশ নারীর তথ্য ভুল, পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৫৬.৫ শতাংশ। শহরের ১৫.৩ শতাংশের বিপরীতে গ্রামের ৮৪.৭ শতাংশ ভোটারের তথ্যে ভুল পাওয়া গেছে।

জরিপে ৩ শতাংশ মৃত ভোটার, ৯.৪ শতাংশ স্থানান্তরিত ভোটার এবং ‘খুঁজে পাওয়া যায়নি’ এমন ১.৮ শতাংশ ভোটারের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ইডাব্লিউজি জানিয়েছে, তাদের হিসাবে দুই কারণে নাগরিকরা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। একটি হচ্ছে তথ্য সংগ্রহকারীরা যখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য নিচ্ছেন তখন বাদ পড়াদের ৫৬.১ শতাংশ বাড়িতেই ছিল না, আবার নিবন্ধনের সময় তাদের ১৬.৩ শতাংশ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলেও ব্যর্থ হয়েছে।

জরিপের সময় ও পদ্ধতি সম্পর্কে ইডাব্লিউজি জানিয়েছে, ২০১৫-১৬ সালে দেশের বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যবহৃত ভোটার তালিকা নিয়ে গত বছরের শেষ দিকে ‘লিস্ট টু পিউপল’ ও ‘পিউপল টু লিস্ট’ পদ্ধতি ব্যবহার করে এ জরিপ করা হয়। এতে ভোটার তালিকার তিন হাজার জনকে বাছাই করা হয়। পাশাপাশি তিন হাজার খানার ১০ হাজার ৩৮৬ জনের তথ্য নেওয়া হয়, যাঁদের জন্ম ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে, অথচ ভোটার হিসেবে তাঁরা নিবন্ধিত নন। এরপর তাঁদের তথ্য বিশ্লেষণ করে যোগ্যতা সত্ত্বেও কত শতাংশ নাগরিক ভোটার হতে পারেনি তা বের করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইডাব্লিউজির সদস্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, আব্দুস সালাম, নোমার আহমেদ খান, রেজাউল করিম চৌধুরী প্রমুখ।


মন্তব্য