kalerkantho


নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা

ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিকট জট

রেজাউল করিম   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিকট জট

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার বিচার সহজে শেষ হয় না। ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও অনেক মামলা বছরের পর বছর ধরে চলছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালগুলোতে মামলার জট লেগে আছে।

আঠারো জেলায় ট্রাইব্যুনালই নেই। জেলা জজ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার বিচার করেন। ওই জেলাগুলোতে ৪১টি ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে দুই বছর ধরে।

সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের এক লাখ ৫৬ হাজার ৮২টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এসবের মধ্যে ৪৬টি জেলার ৫৪টি ট্রাইব্যুনালে এক লাখ ৪১ হাজার ১৮৭টি ও ট্রাইব্যুনাল না থাকা ১৮টি জেলায় ১৪ হাজার ৮৯৫টি মামলা রয়েছে। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিচারাধীন ছিল এক লাখ ৫২ হাজার ৩৫টি মামলা।

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, আইন অনুযায়ী এসব মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মামলা শেষ করার কোনো রেকর্ড নেই।

হাজারো মামলা রয়েছে, যেগুলোর বিচারকাজ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলছে। তিনি বলেন, মামলার সংখ্যা অনেক বেশি। আবার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সরকারের তেমন উদ্যোগ নেই।

সালমা আলী বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২ অনুযায়ী আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়নি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে এ আইনের মামলার বিচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে মানবপাচারের মামলাগুলোও নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এ আইনে প্রথম মামলা দায়ের করেছিল বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি ২০১৩ সালের শুরুর দিকে ফরিদপুরের ট্রাইব্যুনালে। সেটির বিচার এখনো শেষ হয়নি।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, এসব মামলার বিচারে বিলম্ব হচ্ছে। আর আসামি জামিন নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বেশির ভাগ মামলার আসামি প্রভাবশালী। তারা জামিনে থেকে নানাভাবে বিচারকাজকে প্রভাবিত করে। তিনি বলেন, এসব মামলার আইনজীবী ও বিচারকদের দক্ষতা বাড়াতেও সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

যেসব জেলায় বেশি জট

চট্টগ্রামের তিনটি ট্রাইব্যুনালে ১২ হাজার ৮১৩টি, ঢাকার পাঁচটি ট্রাইব্যুনালে ১২ হাজার ১২৬টি, খুলনার একটি ট্রাইব্যুনালে পাঁচ হাজার ১৪৩টি ও মৌলভীবাজারের একটি ট্রাইব্যুনালে পাঁচ হাজার ২৬টি মামলা বিচারাধীন।

আইনজ্ঞরা বলেন, ট্রাইব্যুনালে মামলার পরিমাণ বেশি হওয়ায় আইন-নির্দিষ্ট সময়ে বিচার শেষ করা সম্ভব হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অভিযোগপত্র দেরিতে জমা পড়ে। সাক্ষীর অভাবেও বিচার ঝুলে থাকছে। তাই সরকারকে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।

যেসব জেলায় ট্রাইব্যুনাল নেই

রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাগুরা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও ভোলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নেই।

হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ জানান, এসব জেলায় জেলা জজরা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার বিচার করছেন।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৮ অক্টোবর এই ১৮ জেলায় ৪১টি ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এরপর মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করে। গত বছরের ৩ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়। তার আগে সম্মতি জানায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত। এসংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রয়েছে। আশা করা যায়, শিগগির অনুমোদন মিলবে।

 


মন্তব্য