kalerkantho


সম্পদের তথ্য গোপনের মামলা

ইকবাল বাইরে স্ত্রী-সন্তানরা কারাগারে

আদালত প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ইকবাল বাইরে স্ত্রী-সন্তানরা কারাগারে

ইকবাল

সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. এইচ বি এম ইকবালের সাজা বাতিল হলেও কারাগারে যেতে হলো তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে। গতকাল বুধবার ইকবালের স্ত্রী-সন্তানরা ঢাকার ১ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক আতাউর রহমান তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ইকবালের স্ত্রী মমতাজ বেগম ডলি, ছেলে মোহাম্মদ ইমরান ইকবাল ও মঈন ইকবাল এবং মেয়ে নওরীনও প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন।

বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা স্থগিত চেয়ে করা আবেদন আপিল বিভাগে খারিজ হওয়ার চার মাস পর গতকাল তাঁরা আত্মসমর্পণ করেন। ইকবালের স্ত্রী-সন্তানদের করা আবেদন গত বছর ২৭ নভেম্বর আপিল বিভাগ খারিজ করে দেন।

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এই মামলায় ২০০৮ সালের ১১ মার্চ রায় দেন বিচারিক আদালত। রায়ে সাবেক সংসদ সদস্য এইচ বি এম ইকবালকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া মিথ্যা সম্পদ বিবরণী দাখিলের কারণে তাঁকে তিন বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত। আর তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে তিন বছর করে কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বিবেচনায় বা অন্য কারণে হওয়া মামলায় ইকবালের সাজা বাতিল হয়ে যায়। ২০১০ সালে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

পরের বছরের ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট এই মামলা থেকে তাঁকে খালাস দেন।

তবে ইকবালের স্ত্রী, দুই ছেলে ও মেয়ে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ না করে সাজা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট তাঁদের সাজার কার্যকারিতা স্থগিত করলেও ২০১০ সালের নভেম্বরে ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হয়। কয়েক দফা স্থগিতাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধির পর গত বছরের ১৮ অক্টোবর বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি মো. সেলিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ সাজা আরো ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। এই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে গত ১৫ নভেম্বর আপিল করে দুদক। গত ১৬ নভেম্বর চেম্বার জজ স্থগিতাদেশ স্থগিত করে শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠান। ওই শুনানি শেষে আসামিদের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। ফলে মামলার রায় বহাল থাকায় দণ্ড ভোগ করতে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়।

ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ২৭ মে ডা. ইকবাল, তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় এই মামলা করে দুদক। ওই বছরের ২৫ জুন দুদকের উপপরিচালক মো. ইব্রাহীম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ৬০ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯২ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং দুই কোটি ২৯ লাখ ৫২ হাজার ৭১৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

 


মন্তব্য