kalerkantho


জেনেভায় পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ

আদালতের অনুমতি ছাড়া ১৮-এর নিচে মেয়েদের বিয়ে নয়

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আদালতের অনুমতি ছাড়া ১৮-এর নিচে মেয়েদের বিয়ে নয়

ফাইল ছবি

মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর ও ছেলেদের ২১ বছরই রয়েছে। বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনে বিশেষ ব্যতিক্রমী কিছু ক্ষেত্রে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে এবং তা অবশ্যই আদালতের অনুমতি নিয়েই হতে হবে।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল সোমবার রাতে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটিতে এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন। ওই কমিটি রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন (আইসিসিপিআর) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে।

ওই অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। ১৮ বছরের কম বয়সের মেয়েদের আদালতের অনুমতি নিয়ে বিয়ের সুযোগ রাখা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯২৯ সালের ওই আইনটির আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশের সমাজে বিয়ের আগে মেয়েদের গর্ভবতী হয়ে যাওয়া এখনো গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয় না। ১৮ বছরের কম বয়সী একটি মেয়ে বিয়ের আগে গর্ভবতী হয়ে গেলে সমাজে তার কোনো স্থান থাকে না। এ ধরনের ক্ষেত্রে কেবল আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে বিয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি জেনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা মূল্যায়ন করার তাগিদ দেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম বার্ষিকীকে ঘিরে বিএনপি-জামায়াতের কর্মসূচির সময় নির্বিচার পেট্রলবোমা হামলা, গণপরিবহন ব্যবস্থায় হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি বিশেষদের ওপর হামলা করা হয়েছে। পুলিশও নির্বিচার হামলার শিকার হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় ২৫ জন পুলিশ নিহত হয়েছে।

বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অভিযানের সময় হতাহতের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত হচ্ছে এবং কারো অপরাধ প্রমাণ হলে শাস্তি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত দুই হাজার ৫১৬ জন র্যাব সদস্যের ব্যাপারে তদন্ত হয়েছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আইনে এ ধরনের কোনো শব্দ নেই।

আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতার শুরুতে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ আকস্মিক কোনো বিষয় ছিল না। অংশগ্রহণমূলক সমাজের স্বপ্ন নিয়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতার এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ যে সংবিধান প্রণয়ন করেছে তাতে বিশ্ব শান্তির প্রতি অঙ্গীকার করা হয়েছে। পররাষ্ট্রনীতিতে বলা হয়েছে, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব; কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্টো পথে যাত্রা করেছে। এরপর একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থান, সামরিক শাসন এসেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর সংবিধানের মূল চেতনা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ২০০০ সালে আইসিসিপিআরে স্বাক্ষর করে। কিন্তু এরপর যে সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, আইসিসিপিআরের প্রতি তাদের কোনো অঙ্গীকার ছিল না। বর্তমান সরকার ২০১৫ সালে আইসিসিপিআরের অগ্রগতি প্রতিবেদন জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটিতে দাখিল করেছে।

আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সহিংসতা, বিদেশিদের ওপর হামলার তথ্য দিয়ে সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ন্যায্য সমাজ গঠনে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ।

পর্যালোচনা সেশনের চেয়ারপারসনসহ কমিটির একাধিক বিশেষজ্ঞ আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। সেশনের চেয়ারপারসন বলেন, আইসিসিপিআর বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করাই এ আলোচনার লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞরা তাঁদের বক্তব্যে বাল্যবিয়ে আইন, সমকামী সম্প্রদায়, গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার, তথ্য-প্রযুক্তি আইন, সন্ত্রাস দমন আইন, আমাদের দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার বিষয়ে জানতে চান।

আইনমন্ত্রী বলেন, মাহমুদুর রহমানের নামে চারটি মামলা রয়েছে। এর পরও তিনি জামিনে আছেন।

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাধারণ অপরাধীর মতোই বিচার করা হয়েছে। বাংলাদেশে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।  

আইনমন্ত্রী বাংলাদেশে ব্লগারদের নিরাপত্তায় নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরেন। মৃত্যুদণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ছোট কোনো অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই। কেবল অত্যন্ত গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে এবং তা সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট থেকে অনুমোদন হতে হয়।

জেনেভায় আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় ও শেষ দিনের মতো বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হবে।


মন্তব্য