kalerkantho


একাদশে পছন্দের এক কলেজেই ভর্তির সুযোগ

শরীফুল আলম সুমন   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



একাদশে পছন্দের এক কলেজেই ভর্তির সুযোগ

এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পছন্দের এক কলেজ নির্বাচন করে দেবে আন্তশিক্ষা বোর্ড। তবে শিক্ষার্থীরা গত বছরের মতো ১০টি কলেজ পছন্দ করতে পারবে। সেই পছন্দের প্রতিষ্ঠান থেকে একটি কলেজ নির্বাচন করে দেওয়া হবে। নির্বাচিত কলেজে আবশ্যিকভাবে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে হবে। তবে কেউ যদি ওই কলেজে থাকতে না চায় তাহলে তাদের মাইগ্রেশনের সুযোগ থাকবে। মাইগ্রেশন করে তারা মেধার ভিত্তিতে অন্য কলেজে ভর্তি হতে পারবে। গতকাল আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত অন্য শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরাও এ ব্যাপারে একমত হন। তবে এ ব্যাপারে যাতে কোনো জটিলতায় পড়তে না হয় সে জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সভা শেষে জানানো হয়।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের একটি কলেজ পছন্দ করে দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তবে ব্যাপারটি এখনই চূড়ান্ত নয়।

বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তাঁদের সায় থাকলে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এরপর এ বিষয়ে পরবর্তী আন্তশিক্ষা বোর্ডের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ’

জানা যায়, ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তি পদ্ধতি চালু হয়। ওইবার শিক্ষার্থীদের পাঁচটি কলেজ পছন্দের সুযোগ দেওয়া হয়। সেখান থেকে একটি কলেজ নির্বাচন করে দেওয়া হয়। কিন্তু সে সময় সফটওয়্যার জটিলতার কারণে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। একই জিপিএ পেয়ে কেউ ভালো কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও কাউকে আবার কলেজই নির্বাচন করে দেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে একাধিক মেধাতালিকা করে সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। এরপর গত বছর সেই পদ্ধতি তুলে দিয়ে ১০টি কলেজ পছন্দের সুযোগ দেওয়া হয়। আর শিক্ষার্থীদের ১০টি কলেজেই মেধাক্রম তৈরি করে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের যেকোনো কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়।

এবার আবারও ২০১৫ সালের পদ্ধতিতে ফিরে আসছে আন্তশিক্ষা বোর্ড। একটি কলেজ নির্বাচন করে দেওয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে। তবে ১০টি কলেজ পছন্দের সুযোগ রাখা হবে। আর মাইগ্রেশনের সুযোগ রাখা হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীদের পছন্দ না হলে কলেজ পরিবর্তন করতে পারে।

সভায় উপস্থিত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘অনলাইনে ভর্তি পদ্ধতির বিশ্বব্যাপী সিস্টেম একটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে দেওয়া। আমরাও সেভাবে শুরু করেছিলাম। কিন্তু প্রথমবার সফটওয়্যার জটিলতার কারণে দ্বিতীয়বার সে পদ্ধতি থেকে ফিরে আসা হয়। গত বছর দেখা গেছে, একজন শিক্ষার্থীর যখন ১০টি কলেজে মেধাক্রম থাকে তাকে তখন ১০টি কলেজে খোঁজ নিতে দৌড়াতে হয়। অনেকেই নিশ্চিত না করে একাধিক কলেজে ভর্তি হয়। একটি কলেজে আসন খালি হলে অন্য কলেজ থেকে এসে ভর্তি হতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই এবার একটি কলেজ পছন্দ করে দেওয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীর যদি ওই কলেজ পছন্দ না হয় তা হলে সে মাইগ্রেশনের জন্য অনলাইনে আবেদন করবে। মেধা অনুযায়ী তার কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। তবে কাউকেই ভর্তির বাইরে রাখা হবে না। ’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০১৫ সালেও একটি কলেজ নির্বাচন করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছু বেসরকারি কলেজ একবার শিক্ষার্থী পেলে কোনোভাবেই আর ছাড়তে চায় না। ফলে শিক্ষার্থীদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। শিক্ষা বোর্ড ও কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার দৌড়াতে হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা না জেনে কিছু কলেজ পছন্দ করে। আর বোর্ড একটি কলেজ পছন্দ করে দেওয়ায় উচ্চ ফি দিয়ে ওই কলেজেই শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে বাধ্য হয়।

জানা যায়, সম্প্রতি শেষ হয়েছে এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা। এখন ব্যবহারিক পরীক্ষা চলছে। এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ বা মে মাসের প্রথমে এই পরীক্ষার ফল দেওয়া হবে। আর মে মাসেই অনলাইনে ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সারা দেশে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার। আর এতে আসনসংখ্যা প্রায় ১৯ লাখ। তবে সরকারি কলেজের সংখ্যা ৩২৯টি। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক রয়েছে ৩০০টি কলেজে। আর এতে একাদশ শ্রেণির আসনসংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। রাজধানীতে ১৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণি রয়েছে। এসব কলেজে মোট আসন আছে প্রায় ৫০ হাজার। এর মধ্যে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের চাহিদা মতে ভালোমানের কলেজ আছে প্রায় ৩০টি। এতে আসনসংখ্যা প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার। এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১৪ লাখ ৩২ হাজার ৭২৭ জন। শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে আসনের কোনো সংকট না থাকলেও ভালোমানের কলেজের সংকট রয়েছে। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরই পছন্দের কলেজ প্রায় একই।


মন্তব্য