kalerkantho


এমপি লিটন হত্যা

ডা. কাদেরের পিএস শামসুজ্জোহা গ্রেপ্তার স্বীকারোক্তি

সুন্দরগঞ্জে তাঁর গুদামে হয় অস্ত্র প্রশিক্ষণ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ডা. কাদেরের পিএস শামসুজ্জোহা গ্রেপ্তার স্বীকারোক্তি

মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন

সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডে মূল পরিকল্পনাকারীদের একজন সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খানের পিএস শামসুজ্জোহা। নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গুদামঘরে গোপন বৈঠক ও খুনিদের অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিয়ে পুরো বিষয়টিতে তিনি সমন্বয়কারীর কাজ করেছেন।

হত্যার আগে ও পরের সব ঘটনাও জানতেন তিনি।

গাইবান্ধার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল হাসান ইউসুবের আদালতে গতকাল রবিবার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন শামসুজ্জোহা। এর আগে গতকাল ভোরে সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে কাদের খানের বহুল আলোচিত এই পিএসকে আটক করে পুলিশ। জোহাকে বুলেটপ্রুপ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে আদালত চত্বরে এনে গাড়ি থেকে নামানো হয়। পরে তাঁকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাঁকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম ও পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, কাদের খানের ব্যক্তিগত সহকারী শামসুজ্জোহা জবানবন্দিতে এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি স্তরে নিজের সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জোহা বলেন, টিআর-কাবিখাসংক্রান্ত কাদের খানের দুর্নীতির বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক চন্দন কুমার রায় দুদকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। সে সময় তদন্তও শুরু হয়।

অবস্থা বেগতিক দেখে কাদের খান চন্দনের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতা করার দায়িত্ব দেন জোহাকে। অর্থের বিনিময়ে চন্দন রায় কাদের খানের সঙ্গে সমঝোতায় আসেন। সে সময় কাদের খানের লোক হিসেবে কাজ করার জন্যও চন্দনকে রাজি করান জোহা। কাদের খানের ইন্ধনে চন্দন নানাভাবে এমপি লিটনের দুর্নীতির বিষয় লাইমলাইটে নিয়ে আসেন।

জবানবন্দিতে জোহা জানান, কাদের খান ২০১৬ সালের প্রথম দিকে লিটনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তিনি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যাদের সহায়তা চান তাদের মধ্যে জোহা অন্যতম। একে একে এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হয় চন্দন, তাঁর ভগ্নিপতি সুবল, মেহেদী, শামীম, শাহীন ও রানা।

শামসুজ্জোহার ভুট্টার গোডাউনে কাদের খান তাঁর খুনি বাহিনীকে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেন। সে সময় তিনটি পিস্তল জোহার হেফাজতে ছিল। এমপি লিটন সম্পর্কে সব সোর্স থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে জোহা তা কাদের খানকে সরবরাহ করতেন। ডা. কাদেরও মাঠপর্যায়ে জোহার মাধ্যমেই নির্দেশনা পাঠাতেন।

অন্য একটি সূত্র জানায়, এমপি লিটন হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়া চার খুনি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অন্যদের সঙ্গে শামসুজ্জোহার নামটিও উল্লেখ করে। ওই হত্যার ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল ভোরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান জানান, এমপি লিটন হত্যা মামলায় শামসুজ্জোহাসহ মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। আটক অন্য দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে সন্দেহমূলক, নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।


মন্তব্য