kalerkantho


বিশ্বে দুর্ভিক্ষের শিকার ১০ কোটি মানুষ

সোমালিয়ায় ৪৮ ঘণ্টায় ১১০ জনের মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিশ্বে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের শিকার। এ সংখ্যা আরো বাড়বে, যদি না মানবিক সহায়তাগুলো কৃষকদের উৎপাদন ও জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়া হয়। এ কথা বলেছেন জাতিসংঘের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তার মতে, জাতিসংঘ দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে ঠিকই; কিন্তু এতে মানুষগুলো বেঁচেবর্তে থাকলেও এই সহায়তা দুর্ভিক্ষ দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। তিনি খাদ্য উৎপাদনের প্রধান কারিগর কৃষকদের অবস্থা পরিবর্তনে কৃষিক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে সোমালিয়ায় ক্ষুধা ও মারাত্মক খরাজনিত অসুস্থতায় ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান আলী খায়েরে শনিবার এ কথা জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) জরুরি বিভাগের পরিচালক দমিনিক বারজন সম্প্রতি থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে এক সাক্ষাৎকার দেন। এতে তিনি তাঁদের সাম্প্রতিক গবেষণার উল্লেখ করে জানান, ২০১৬ সালে বিশ্বে ১০ কোটি ২০ লাখ মানুষ তীব্র অপুষ্টিতে ভুগেছে। এর মানে হচ্ছে, এরা দুর্ভিক্ষের কারণে মৃত্যুমুখে পতিত।

দুর্ভিক্ষের এই হার আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। ২০১৫ সালে আট কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষপীড়িত ছিল। বারজন জানান, বিশেষ করে ইয়েমেন, দক্ষিণ সুদান, নাইজেরিয়া ও সোমালিয়ার পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার কারণেই সার্বিক চিত্রে এতটা অবনতি দেখা গেছে। ওই এলাকাগুলোতে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা, খরা ও খাদ্য ঘাটতি রয়েছে।

বারজন বলেন, ‘মানবিক সহায়তা বহু লোককে বাঁচিয়ে রেখেছে এটা সত্য। কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। ’ তাঁর মতে, এই মানুষগুলো যাতে নিজেরাই নিজেদের খাবার জোগাড় করতে পারে সে জন্য তাদের ফসল উৎপাদন ও পশু পালনে আরো বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিমানে করে আসি, তাদের খাবার দিই এবং বাঁচিয়ে রাখি; কিন্তু তাদের জীবিকা বা অর্থ উপার্জনের জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগের কোনো চেষ্টা আমরা করি না। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তাদের দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়া এড়িয়ে যাই। তাদের দুর্ভিক্ষ থেকে উদ্ধারে বা খাদ্য অনিরাপত্তা দূর করতে আমরা ভালো কোনো কাজ করি না। ’

এর আগে গত মাসে জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি আশঙ্কা প্রকাশ করে, আগামী ছয় মাসে পৃথক চারটি দুর্ভিক্ষে দুই কোটিরও বেশি মানুষ মারা যাবে।

সোমালিয়ার প্রধানমন্ত্রী হাসান আলী খায়েরে শনিবার জানান, তাঁর দেশে ক্ষুধা ও মারাত্মক খরাজনিত অসুস্থতায় ৪৮ ঘণ্টায় ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বে অঞ্চলে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রথমবারের মতো প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হলো। মানবিক সংস্থাগুলো আগামী দিনগুলোতে দেশটিতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ৩০ লাখ লোক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হাসান আলী খায়েরে খরা মোকাবেলায় গঠিত কমিটির সঙ্গে শনিবার রাজধানী মোগাদিসুতে বৈঠকে বসেন। এ সময় তিনি জানান, তীব্র খরায় খামারি ও তাদের পশুদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ খাদ্য সংকটের কারণে দুর্ভিক্ষ, আবার কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে তাঁর সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দেন। তিনি মরতে বসা সোমালীয়দের পাশে দাঁড়াতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে দুর্ভিক্ষে সোমালিয়ায় দুই লাখ ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, সিএনএন।


মন্তব্য