kalerkantho


কৌশলী প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কৌশলী প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থীরা

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে ভোট হবে আগামী ৩০ মার্চ। প্রার্থীরা প্রতীক পাবেন ১৫ ও ১৬ মার্চ। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। তবে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু না হলেও বসে নেই তাঁরা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই কৌশলে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা। দোয়া আর আশীর্বাদ নেওয়ার কৌশল নিয়ে তাঁরা পৌঁছে যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।

এদিকে কুসিক নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। গতকাল রবিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিন শেষে রিটার্নিং অফিসার এ তথ্য জানান। মেয়র পদে যাঁদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনজুুম সুলতানা সীমা, বিএনপির মো. মনিরুল হক সাক্কু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) শিরিন আক্তার ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) অ্যাডভোকেট সোয়েবুর রহমান। বাতিল হয়েছে মেজর (অব.) মো. মামুনুর রশীদের মনোনয়নপত্র। এই স্বতন্ত্র প্রার্থী জানান, এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন।

রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মণ্ডল জানান, যাচাই-বাছাইয়ে ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় মেজর (অব.) মো. মামুনুর রশীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি যে ৩০০ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিয়েছেন তার মধ্য থেকে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে পাঁচজনের তথ্য যাচাই করে তিনজনের তথ্য সঠিক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তিনি তিনজনের তালিকার মধ্যে একটি ঘর খালি রেখেছেন।

দুই দিনব্যাপী মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের প্রথম দিনে গতকাল শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন প্রার্থীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার তালিকা নিয়ে আসেন। এ সময় রিটার্নিং অফিসারের হলকক্ষে গুঞ্জন শুরু হয়। রিটার্নিং অফিসার এ সময় জানান, যেহেতু প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়ে গেছে, সেহেতু এটি এখন বিবেচ্য বিষয় নয়। পুলিশের ওই তালিকায় বিএনপির প্রার্থী সাক্কুর বিরুদ্ধে ১০টি মামলার কথা বলা হয় এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সীমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকার কথা বলা হয়।

পরে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘আমি নিজেই ১০টি মামলার তথ্য জমা দিয়েছি। এর মধ্যে আটটি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। বাকি দুটি মামলা চলমান। একজন রাজনীতিবিদের বহু রকমের মামলা থাকতে পারে। এসব মামলার মধ্যে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের মামলাও আছে। বিভিন্ন সময় আন্দোলনের কারণে আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ’

অন্য মেয়র প্রার্থী আনজুম সুলতানা সীমা কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই উল্লেখ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মার্কা নৌকা। কেউ এখানে দ্বিমত পোষণ করতে পারবে না। সবাই এখানে কাজ করবে। নৌকার বাইরে কেউ যেতে পারবে না। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। ’

এদিকে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা। প্রচার চালাতে তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন কৌশল বেছে নিয়েছেন। বিশেষত কুশল বিনিময়, দোয়া ও আশীর্বাদ কামনাকে সামনে রেখে তাঁরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। তাদের কানে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। সদ্য সাবেক হওয়া জনপ্রতিনিধি প্রার্থীরা ভোটারদের সামনে আনছেন নিজেদের দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। আর নবাগত প্রার্থীরা দিচ্ছেন অধিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, সামনে আনছেন সাবেকদের ব্যর্থতা। প্রার্থীদের মধ্যে চলছে ভোটারদের কাছে যাওয়ার অদৃশ্য প্রতিযোগিতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনানুষ্ঠানিক ও কৌশলী প্রচারে বেশ তৎপর সদ্য সাবেক হওয়া মেয়র ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু। ৩ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরপরই নেতাকর্মীদের নিয়ে আটঘাট বেঁধে ভোটের মাঠে নেমে পড়েছেন তিনি। বাবার কবর জিয়ারত, নগরীর কয়েকটি মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছেন তিনি। ইতিমধ্যে সাক্কু নগরীর ১০ থেকে ১৫টি ওয়ার্ডের ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সাত্তার খান কমপ্লেক্স, গোল্ডেন টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্স, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজা শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন তিনি। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই গোপন ও কৌশলী এসব প্রচারের ছবি দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পাতায়।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনজুম সুলতানা সীমা কৌশলী প্রচারে তৎপর না হলেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন দলীয় ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরাও তাঁর সঙ্গে দেখা করে দিকনির্দেশনা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এর আগে ৩ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বাবা আফজল খানসহ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দারোগাবাড়ি মাজার জিয়ারতে যান সীমা। সেখানে বিএনপির প্রার্থী সাক্কুর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর পরস্পরকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল মুখে কুশল বিনিময় করতে দেখা গেছে।

দুই হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থীর বাইরে অনানুষ্ঠানিক প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। বিভিন্ন অজুহাতে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাঁরা।

 


মন্তব্য