kalerkantho


এমআইএসটিতে ১৩ শ তরুণ উদ্ভাবকের ‘রোবলিউশন’

মো. জহিরুল ইসলাম   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



এমআইএসটিতে ১৩ শ তরুণ উদ্ভাবকের ‘রোবলিউশন’

পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তির সতায়তার জন্য রোবটিক হাত। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় মুখের নির্দেশনা গ্রহণে সক্ষম হুইলচেয়ার। নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য অটো ভাইব্রেট হেলমেট। এ রকম নানা উদ্ভাবন নিয়ে গতকাল শনিবার সম্পন্ন হলো জাতীয় পর্যায়ের রোবটিকস প্রতিযোগিতা ‘রোবলিউশন-২০১৭’। গতকাল শনিবার মিরপুর সেনানিবাসে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এমআইএসটি) এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এমআইএসটিতে অনুষ্ঠিত হলো রোবলিউশন। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের সক্ষম করে তুলতে বাংলাদেশের তরুণ উদ্ভাবকদের মিলনমেলা হচ্ছে এই রোবলিউশন। আয়োকজকরা জানান, রোবটিকসে (রোবট প্রযুক্তি) নিমগ্নদের মধ্যে প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় নিত্যনতুন উদ্ভাবন করাই হচ্ছে প্রতিযোগিতা ‘রোবলিউশনের’ মূল উদ্দেশ্য। এই আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল কালের কণ্ঠ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে প্রেরণার কথা শোনালেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞানকে নিয়ে যেতে হবে।

তা না হলে বঙ্গবন্ধুকন্যার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হবে না। তিনি বলেন, রোবলিউশন বিজ্ঞানমনস্ক যুবকদের দক্ষতা তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম। সারা দেশের বিজ্ঞান ও রোবটিকস-মনা শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় মিলনস্থল হচ্ছে এই প্রতিযোগিতা। এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ব্যাপারে প্রকৌশলীদের মাঝে দৃঢ় সেতুবন্ধ তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আজকের গতিশীল পৃথিবী সব বাধা অতিক্রম করে আমাদের কল্পনার সীমাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যা শুধু সম্ভব হয়েছে প্রযুক্তির অবাধ অগ্রযাত্রার ফলে। এর পেছনে অনেক বড় অংশজুড়ে রয়েছে রোবটিকস। ’ তিনি বলেন, গতানুগতিক চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে নতুনকে গ্রহণ করার অনুপ্রেরণা দিতে পারে রোবটিকস।

সাতটি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হচ্ছে লাইন ফলোয়ার রেসিং, ব্যাটেল অব বোটস, সলিডওয়ার্কস ডিজাইন, প্রজেক্ট শোকেসিং, পোস্টার উপস্থাপনা, কোয়াড কপ্টার চ্যালেঞ্জ এবং রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন এমআইএসটি রোবটিকস ক্লাবের সভাপতি নাজমুল হাসান।

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে আসে মো. মাহিনুর রহমান ও তাঁর দল। সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে তারা তৈরি করেছে রোবট হ্যান্ড (অওউ ঠজগ-ঠ২.০)। এটি দুই ধরনের মানুষের কাজে আসবে বলে জানান মাহিনুর। প্রথমত, যারা পক্ষাঘাতগ্রস্ত কিন্তু আঙুল নাড়াতে পারে তাদের জন্য। আর যারা একেবারেই হাত নাড়াতে পারে না তারা অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে কৃত্রিম হাতটি ব্যবহার করে কাজ করতে পারবে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে ওযাদুদ ও তাঁর দল নিয়ে এসেছে অত্যাধুনিক হুইলচেয়ার, এটি বাংলা ও ইংরেজিতে নির্দেশনা গ্রহণ করবে; যা মুখের নির্দেশনায় চলবে। ফিউচার ইনভেনশন সায়েন্স ক্লাবের জাসিপ ও তাঁর দল নিয়ে আসে অটো ভাইব্রেট হেলমেট। এটি ব্যবহারে নির্মাণ শ্রমিকরা তাদের মাথায় কিছু পড়ার আগেই জানতে পারবে যে ওপর থেকে কিছু পড়ছে। ১০ মিটারের মধ্যে এলে হেলমেটই সতর্ক করে দেবে ব্যবহারকারীকে। এভাবে বিজ্ঞানের নবচিন্তা আর উদ্ভাবন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, নর্দান ইউনিভার্সিটি, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ ৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় এক হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিনিস্টার হাই-টেক পার্ক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিয়া রাজ্জাক খান। তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থায়ন শুধু অর্থ দেওয়ার জন্য নয়। এটি আমাদের দেশকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন এবং যুবসমাজের নবচিন্তাকে কাজে লাগানোর জন্য। এই ক্লাবের সাথে আমরা আছি আর সামনেও থাকব—এই প্রত্যাশা। ’

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর ইয়ুথ প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ও বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান। এ ছাড়া এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. আবুল খায়ের এনডিসি, ইইসিই বিভাগের প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ হোচ্ছাম-ই-হায়দার পিএইচডি, বিএএফসহ অন্যান্য বিভাগীয় প্রধানরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ বক্তা হিসেবে সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘টেনমিনিট স্কুল’-এর প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক।


মন্তব্য