kalerkantho


আলোচনা সভায় নেতারা

বিএনপিরটা বাতিল হলে কোনো দলেরই নিবন্ধন থাকবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিএনপিরটা বাতিল হলে কোনো দলেরই নিবন্ধন থাকবে না

বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হলে দেশে কোনো দলেরই নিবন্ধন থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি। গতকাল শনিবার পৃথক আলোচনাসভায় দলটির একাধিক নেতা এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনাসভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল। এতে অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আপনারা (সরকার) ইদানীং বলছেন যে নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে বলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, দেশের মালিক-মোক্তার হলো জনগণ, আপনারা কেউ নন। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করেই আমরা নির্বাচন করব ইনশাল্লাহ। সেখানে নিবন্ধন বাতিলের প্রশ্নই উঠবে না। আর বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হলে এ দেশে কোনো দলেরই সেদিন নিবন্ধন থাকবে না।

সেই পরিস্থিতির দিকে যদি সরকার দেশকে ঠেলে দেয় তাহলে সে জন্য এই সরকারকেই দায়ী থাকতে হবে, শেখ হাসিনা দায়ী থাকবেন। ’

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তথ্য-উপাত্তহীন মামলা দিয়ে সরকার আমাদেরকে দুর্বল করতে চায়।

এই সরকার দেশনেত্রীকে শাস্তি দিতে পারবে না; কোনো আদালত দিতে পারবেন না। বিচারালয়ে নাটক হচ্ছে। দেশনেত্রীকে বিশেষ আদালতে নিয়ে সারা দিন বসিয়ে রাখা হচ্ছে, মানসিকভাবে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ রকম মামলা ১/১১ সময়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও হয়েছিল। চাঁদাবাজির মামলায় শেখ হাসিনার যদি সাজা না হয় তাহলে খালেদা জিয়ার মামলাতেও সাজা দেওয়া সম্ভব হবে না। ’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ মো. ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেদা ইয়াসমীন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, নিপুণ রায় চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে পুরানা পল্টনে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, নির্বাচনে না এলে বিএনপির রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যাবে। আরে রেজিস্ট্রেশন কী? আপনারা যখন ৭৯ ও ৮৬ সালে নির্বাচনে গিয়েছিলেন, তখন কোন রেজিস্ট্রেশনের ওপর নির্বাচনে গিয়েছিলেন? একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি জনগণের ইচ্ছা-অনিইচ্ছাই বড় রেজিস্ট্রেশন। মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনরা বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই প্রথা চালু করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল—বিএনপিকে রেজিস্ট্রেশন দিয়ে এমনভাবে বাঁধো যাতে তারা পাতানো ও প্রহসনের নির্বাচনে অংশ নিতে থাকে। আর রাজসিংহাসনে শেখ হাসিনা আজীবন রাজত্ব করবেন। ’ ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে তিনি আরো বলেন, ‘দেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষকে রেজিস্ট্রেশনের ফিতায় বাঁধার আপনাদের সুখস্বপ্ন কোনো দিন পূরণ হবে না। ’

আয়োজক সংগঠন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ‘লিডারশিপ ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, যুবদলের নুরুল ইসলাম নয়ন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।


মন্তব্য